পটিয়ার বিতর্কিত এসআই কুতুব অবশেষে ক্লোজড

আপডেট : ২৯ মে ২০১৭, ১৩:৫২
অবশেষে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার বিতর্কিত এসআই কুতুব উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত করতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এমরান ভুঁইয়া পিতা-পুত্রের লোমহর্ষক মৃত্যুর ঘটনাসহ তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উত্থাপিত হয়। যার প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই কুতুবকে ক্লোজড করে সোমবার চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়।
 
সূত্রে জানা গেছে, এসআই কুতুব শিক্ষানবিশ হিসেবে ২০১২ সালে পটিয়া থানায় যোগদান করেন। প্রমোশন পেয়েও সে দীর্ঘ ৫ বছর পটিয়া থানা ছাড়েননি। ৫ বছরে তাকে ৫বার বদলী করা হয়। কিন্তু প্রতিবারেই অর্থের বিনিময়ে সে বদলী ঠেকিয়ে  দেন। তাছাড়া প্রতিদিন এলাকার নিরীহ মানুষ ধরে এনে বাণিজ্য, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, জায়গা দখল-বেদখল করে দেওয়া, মদ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশসহ তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে।
 
২০১৪ সালে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব হাইদগাঁও গ্রামের ডুয়ারপাড়া এলাকায় এসআই কুতুবের কারণে পিতা-পুত্রের লোমহর্ষক মৃত্যুর ঘটনা ও হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ শুনে হতভম্ব হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এমরান ভুঁইয়া।
 
মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাহমিনা বেগম এসআই কুতুবের অভিযোগ তদন্ত করতে পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানান। এর আলোকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এমরান ভুঁইয়া গত রবিবার সকালে পটিয়া থানায় এসে তদন্ত কাজ শুরু করেন। বিনা কারণে উপজেলার হাইদগাঁও এলাকার রহিম বাদশাকে আটক করে একটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। নিরপরাধ ছেলে জেলে থাকায় পিতা আবু ছিদ্দিক হার্টস্ট্রোক করে মারা যায়। তখন ছেলে রহিম বাদশা জেলে ছিল। পরবর্তীতে ছেলে জেল থেকে বেরুলে পিতা হার্টস্ট্রোকে মারা যাওয়ার খবরে পেয়ে সে নিজেও আত্মহত্যা করে জীবনের ইতি টানে। নিরীহ পরিবারটিকে পুলিশ ভয়ভীতি দেখানোর কারণে কোন অভিযোগ করেনি।
 
একইভাবে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদি পত্রিকার পটিয়া প্রতিনিধি আবেদুজ্জামান আমিরীকে একটি যৌন সুড়সুড়ি মামলায় এসআই কুতুব নানাভাবে হয়রানি করে।
 
 
ইত্তেফাক/এমআর