পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’-এ পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ র প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে সোমবার সকাল থেকে আকাশ মেঘলা রয়েছে। মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র মোকাবেলায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জরুরি সভা করে দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবেলায় সকাল থেকে প্রস্তুতিমূলক একাধিক সভা করা হয়েছে। বন্দরের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বন্দরে অবস্থানরত সকল জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা মীর আব্দুল হালিম জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা সদরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুপুর ১২টায় একটি দুর্যোগ প্রস্তুতি সভা শুরু হয়েছে। উপজেলার ৪৩ টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সর্তকতার সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
মংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সভা করা হয়েছে। এখানে সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে উপজেলার ৪২টি সাইক্লোন শেল্টার। মসজিদ এবং উপজেলার প্রশাসনের মাইক থেকে জরুরি মাইকিং করা হয়েছে। শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ( ডিএফও) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবেলার বনবিভাগের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকল স্টেশন কর্মকর্তাদের বেতার বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। নৌযান গুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র মোকাবেলায় আজ সোমবার বিকাল ৩টায় জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। জেলার সাইক্লোন সেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার সরবরাহের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মাঠ পর্যয়ে কাজ করতে সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে।
ইত্তেফাক/কেকে
