ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় জিদানের মাদ্রিদ

আপডেট : ২৯ মে ২০১৭, ১৭:৩২
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে নতুন এক ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে জিনেদিন জিদান ও রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী শনিবার কার্ডিফে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে ইতালীয় জায়ান্ট জুভেন্টাসের বিপক্ষে লড়াইয়ে জিতে বিরল এই গৌরব অর্জন করতে হবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। 
 
১৯৯২ সালে ইউরোপীয় কাপ টুর্নামেন্টটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগে পরিণত হবার পর থেকে এখনো পর্যন্ত ইউরোপের কোন ক্লাব আগের মৌসুমে জয় করা শিরোপা অক্ষুন্ন রাখতে পারেনি। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মত সিনিয়র দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহনের ১৮ মাসের মধ্যে জিনেদিন জিদান হতে যাচ্ছেন ২০তম কোচ যিনি হবেন দুই বার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের গৌরবে গৌরবান্বিত। সেই সঙ্গে ১২বারের মত এই শিরোপাটি জয় করতে পারলে রিয়াল নিজেদেরকে ইউরো ক্লাব আসরের অঘোষিত শাসকের আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারবে। যা হবে তাদের জন্য চার মৌসুমের মধ্যে তৃতীয় শিরোপা। 
 
নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে সেমিÑফাইনাল থেকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর রিয়াল কোচ জিদান বলেছিলেন, ‘আমি এই দলের কোচ, এর অর্থ হচ্ছে আমি ক্লাবটিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু স্কোয়াডের প্রতিটি সদস্যই এই অসাধারণ কাজের অংশীদার।’
 
গত সপ্তায় লা লীগার শিরোপা নিশ্চিত করার পর ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করা জিদান বলেছিলেন,‘ স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আমার পেশাদারী জীবনে এটি সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত।’ 
 
ওয়েলসের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে জয়লাভ করলে রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল মৌসুমটি কাটাতে সক্ষম হবে। 
 
ফাইনালের প্রতিপক্ষ জুভেন্টাসের ফুটবল সম্পর্কেও ভাল অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক ফরাসি কিংবদন্তী জিদানের। কারণ ২০০১ সালে ইতালীয় ওই ক্লাব থেকে জিদানকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে দলভুক্ত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। 
 
মূল বিষয় হচ্ছে খেলোয়াড়ি জীবনে জিদান তার ক্যারিয়ারের সেরা একটি যুগ কাটিয়েছেন বিশ্বের দুটি ভিন্ন দর্শনের শীর্ষ ক্লাবে। যেটি তার কোচিং ক্যারিয়ারে দারুণ
ভাবে কাজে লাগছে। নিজ সময়ে সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে জিদানের অভিজ্ঞতাটিও বর্তমান ক্যারিয়ারে কাজ দিচ্ছে। বার্নব্যুতে বিশ্রাম কক্ষ থেকে সর্বত্র তিনি অন্যরকম এক ভাবমূর্তি নিয়ে চলাফেরা করতে পারেন। 
 
লা লীগার শিরোপা নিশ্চিত হবার পর দলের পর্তুগাল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেন,‘ জিদান যা করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ।’ রিয়ালের ১১টি শিরোপার বিপরীতে জুভেন্টাস ২টি শিরোপা জয় করেছে। সে দিক থেকে রিয়াল অনেক দূর এগিয়ে আছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইতালীয় জায়ান্টরা ছয়টি ফাইনালে অংশ নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক চারটিতে পরাজিত হয়েছে।
 
কষ্টকর সে অভিজ্ঞতার সঙ্গে অবশ্য জিদান নিজেও পরিচিত। ১৯৯৭ সালে ওই দলটির হয়েই ফাইনালে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিলেন এই ফরাসি কিংবদন্তী। ১৯৯৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেও একই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। এখন অতীতের ওই অভিজ্ঞতার আলোকেই আগামীর পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন জিদান।
তিনি বলেন,‘ এই ম্যাচটি অবশ্যই আমার কাছে বৈশিষ্টমন্ডিত। কারণ খেলোয়াড়ি জীবনে ওই ক্লাবটি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই ক্লাবটিই আমাকে সবকিছু দিয়েছে। এখন আমি রিয়াল মাদ্রিদের। আশা করি দারুণ একটি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।’ 
 
ইত্তেফাক/রেজা