শতাধিক ট্রলারের জেলেরা ফেরেনি পাথরঘাটায়

আপডেট : ৩১ মে ২০১৭, ০১:২৬

ঘূর্ণিঝড় মোরার কারণে হঠাত্ সতর্কতা সংকেত বাড়লেও গভীর সমুদ্রে থাকা জেলেদের সে খবর জানাতে পারেননি বরগুনার পাথরঘাটার ট্রলার মালিকরা। এ কারণে শতাধিক ট্রলারে অবস্থানরত জেলেদের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে। বাবা, স্বামী, ভাই ফিরে আসার অপেক্ষায় রাতভর অপেক্ষার পরও ফিরে আসেননি অনেক জেলেই।

পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা, হরিণঘাটা, রুহিতা, বাঁদুরতলা, কালমেঘা ও কাকচিড়া এলাকার শতাধিক ট্রলারের কয়েকশ’ জেলের পরিবার রাত কাটিয়েছে উত্কণ্ঠার মধ্য দিয়ে। বরগুনা জেলা মত্স্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, উপকূলের কাছাকাছি থেকে যেসব জেলেরা মাছ ধরছিল তারা অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছেন। আবার বিশখালী ও বলেশ্বর নদীতে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরার’ তেমন প্রভাব পড়েনি। কোনো ট্রলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পাথরঘাটার যে জেলেরা গভীর সমুদ্রে ছিল তারা সুন্দরবন, আলোর কোল, দুবলা, কচিখালী, কটকা এ সব এলাকায় এসেছে। মোরার প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় তারা বাড়িতে ফিরতে পারেনি। ট্রলার মালিক আবুল হোসেন ফরাজি বলেন, সাগরে এখনো শতাধিক ট্রলার রয়েছে, কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মোরার তাণ্ডবে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলে ১০ সহস্রাধিক বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এ ছাড়াও ফসলি জমি ও লবণ মাঠের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সকাল ৬টার দিকে সেন্টমার্টিন, টেকনাফ ও কক্সবাজারে ব্যাপক আঘাত হানার পর তা সকাল ৮টার দিকে বাঁশখালীর উপকূলে ব্যাপক আঘাত হানে। বাতাসের প্রবল বেগ মুহূর্তের মধ্যেই উড়িয়ে নেয় উপকূলসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার বাড়িঘরের চালা। ফসলি জমি, সবজি খেত, লবণ মাঠসহ বিভিন্ন পুকুর ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। প্রবল বাতাসের বেগে বিভিন্ন এলাকায় গাছের ডালপালা ভেঙে গিয়ে বাড়িঘরসহ বৈদ্যুতিক তারের উপর পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি সাধনসহ বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গিয়ে ভোর থেকেই বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ থাকে। উপজেলার খানখানাবাদ, বাহারছড়া, সরল, গণ্ডামারা, ছনুয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা কমবেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চল খানখানাবাদ, গণ্ডামারা ও ছনুয়ার মানুষজন।

এ দিকে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে বাঁশখালীর শেখেরখীল এলাকার আবু হানিফের মালিকানাধীন এফবি ইশার ২২ মাঝি-মাল্লা ঝড়ের কবলে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮ মাঝি-মাল্লাকে কুতুবদিয়া থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও চার মাঝি-মাল্লাসহ এফবি ইশা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/নূহু