চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সিলেটে

আপডেট : ০১ জুন ২০১৭, ০৪:১২

দেশের চতুর্থ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে সিলেটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছেন। দক্ষিণ সিলেটের সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে এটি আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের উপস্থিতিতে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আইন প্রণয়ন শেষ হলে ভিসি নিয়োগ দেয়া হবে। আর সিলেট বিভাগের সকল মেডিক্যাল কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেটে একটি ঐতিহাসিক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশে আরো একটি মেডিক্যল বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সেটি হবে সিলেটে। আমি সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন দিতে যাচ্ছি।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শিগগিরই জাতীয় সংসদে এ আইনটি উপস্থাপন হবে। আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান বাড়ানো, নার্সিং ট্রেনিং, স্নাতকোত্তরের পাশাপশি গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমরা যারা সিলেটের অধিবাসী তারা খুবই তৃপ্তি পাচ্ছি। এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা। প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সূত্র জানায়, বৈঠকে স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে, বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় কর্তব্যরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি স্বাস্থ্য পুলিশ গঠনের দাবি জানান।

যৌথ প্রেস ব্রিফিংকালে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দীন আহমদ কামরান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেডিক্যালে ধূমপান করলে ব্যবস্থা

এদিকে গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালে ছাত্র, শিক্ষক, চিকিত্সক ও কর্মচারী ধূমপান এবং তামাক সেবন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ভবিষ্যতে হাসপাতালগুলোতে নারীদের জন্য ৫০ ভাগ ও পুরুষের জন্য ৫০ ভাগ শয্যা রাখার ব্যবস্থা করা হবে। হাসপাতালে রোগীদেরও ধূমপানমুক্ত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ধূমপান বিষপান। তামাক সেবন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেয়। এর দ্বারা কোনো উপকার হয় না। তামাক চাষে কোনো লাভ হয় না। তামাক চাষে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই তামাক চাষের বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না তা ভাবতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ধূমপান মুক্ত করার ব্যাপারে শুধু সরকারি  কর্মকর্তা নয় পরিবারকেও দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিলে সমাজ সহজেই ধূমপান ও তামাকমুক্ত হবে।

ইত্তেফাক/নূহু