কৃষিতে ১৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

আপডেট : ০১ জুন ২০১৭, ১৮:১৪
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৩ হাজার ৬০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। 
 
এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা এবং অনুন্নয় খাতে ১১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা।   
 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য স্বাভাবিক ভর্তুকির অতিরিক্ত হিসেবে কৃষিজাত সামগ্রী রপ্তানীর ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। 
 
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সেচযন্ত্রে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের ওপর ২০ শতাংশ হারে আমরা ছাড় প্রদান করছি। বর্তমানে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে উন্নয়ন সহায়তার হার হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ৭০ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য এলাকার জন্য ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। বিগত এপ্রিল মাসের আকস্মিক বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জ এলাকায় খাদ্যশস্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারা দেশের খাদ্য উৎপাদন মোটামুটিভাবে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।
 
মুহিত বলেন, ইতোমধ্যে কৃষিখাতে নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় মৎস্য ও শাকসবজি উৎপাদনে আমরা যতেষ্ট কৃতিত্ব অর্জন করেছি। পাটের উন্মোচিত জেনোম তথ্য কাজে লাগিয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্য ও নিম্নতাপমাত্রা সহিষ্ণু তোষা পাটের দুটি এবং দেশি পাটের একটি অগ্রবতি লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কৃষি খাতে বিশেষ অবদান রাখা এবং গবেষণায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’প্রদান করা হচ্ছে।
 
অর্থমন্ত্রী কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এবং কৃষকের উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম আরো জোরদারের কথা জানিয়ে বলেন, এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বৈরি পরিবেশে অভিযোজনে সক্ষম ধানের জাত উদ্ভাবন, ফসলের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানো, কৃষিভিত্তিক শিল্পস্থাপন, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, সেচ সম্প্রসারণ , নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত আমদানি নিশ্চিতকরণে সংগনিরোধ কেন্দ্র স্থাপন, জেনেটিক্যালি মোডিফাইড প্রযুক্তির প্রচলন, কৃষিখাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভ্যালু চেইন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ইত্যাদি। পাশাপাশি কৃষি গবেষণালব্ধ ফলাফল, কৃষি ও তথ্য প্রযুক্তি এবং কৃষি সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সারাদেশে ২৩৫টি কৃষি সেবা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছি। বাসস
 
ইত্তেফাক/ইউবি