রপ্তানিকারকদের উপর বাড়তি কর আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। গার্মেন্টসসহ সব ধরণের রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ (০.৭০%) থেকে বেড়ে তা এক শতাংশ (১%) হচ্ছে।
এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করের উপর আরো প্রায় বাড়তি ৪৩ শতাংশ কর দিতে হবে। অবশ্য রপ্তানিকারকদের কর্পোরেট কর বিদ্যমান ২০ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া যে সব স্বীকৃত গ্রিন কারখানার ক্ষেত্রে এই কর কমিয়ে ১৪ শতাংশ করা হচ্ছে।
গত বছরের বাজেটে রপ্তানির কর দশমিক ৬০ (০.৬০%) থেকে দেড়শ’ শতাংশ বাড়িয়ে এক দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু গার্মেন্টস উদ্যোক্তাসহ রপ্তানিকারকদের জোরদার তদবিরে তা দশমিক ৭০ শতাংশে (০.৭০%) নামিয়ে আনা হয়। অবশ্য বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩ (বিবি) ধারায় রপ্তানির কর এক শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। গত বছর বিশেষ আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে তা এক বছরের জন্য ০.৭০ শতাংশ করা হয়। চলতি অর্থবছর শেষে তা যথারীতি এক শতাংশ হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ হাজার ৭শ’ কোটি মার্কিন ডলার। তবে বছর শেষে রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৬শ’ কোটি ডলার হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেই হিসেবে চলতি অর্থবছর রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর বাবদ দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি আদায় হতে পারে। এর উপর দশমিক ৩০ শতাংশ কর বাড়ানো হলে আরো ৮শ’ কোটি টাকা বাড়তি কর পেতে পারে সরকার।
দেশের মোট রপ্তানির ৮২ শতাংশই আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ইতিমধ্যে নানামুখী সংকটের কথা তুলে ধরে রপ্তানির কর বিদ্যমান ০.৭০ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। রপ্তানির প্রণোদনাও বাড়িয়ে যে কোন বাজারের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছিল। এছাড়া স্থিতিশীল কর কাঠামোও দাবি তাদের। তারা বলছেন, বছর বছর কর কাঠামো পরিবর্তন হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, গার্মেন্টস খাতের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করব। নিশ্চয়ই এ খাতের স্বার্থবিরোধী কোন সিদ্ধান্ত তারা নেবেন না। তিনি বলেন, যে কোন কর কাঠামো অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী হওয়া দরকার। তাতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
রপ্তানির মূল্যের উপর (এফওবি) উৎসে কর ধার্য করা হয়ে থাকে। বর্তমানে রপ্তানি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে মোট প্রায় ৬০টি খাত থেকে উৎসে কর কর্তন করা হয়ে থাকে। মোট আহরিত করের ৫৭ শতাংশ আসে উৎসে কর্তনের মাধ্যমে।
ইত্তেফাক/সাব্বির
