গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর গৃহ নির্মাণে গঠিত গৃহায়ন তহবিল থেকে চলতি অর্থ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ২৩৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৭ হাজার ৪৪৫টি পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই তহবিল থেকে এই পর্যন্ত ৩ লাখ ৩৭ হাজার ২২৫ জন উপকৃত হন।
জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ সালে গৃহায়ন তহবিল গঠন করার পর এই তহবিলে ২৯৮ কোটি টাকার মধ্যে ১৬০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ১০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সারাদেশে ৫১৪টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ৬৩টি জেলার ৪০৩টি উপজেলায় গৃহায়ণ ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
দেশের হত দরিদ্র শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গৃহায়ন তহবিলের অর্থায়নে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা জেলার সাভারের আশুলিয়া মৌজায় একটি মহিলা হোস্টেল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ হোস্টেলে ৭৪৪ জন মহিলা শ্রমিককে আবাসন সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে। সরকার বেপজার আওতাধীন ইপিজেডস্থ শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য গৃহ নির্মাণের জন্য একটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঘরে ফেরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে গৃহায়ন তহবিল হতে দুই কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। এরমধ্যে ১ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া সরকার জনগণের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে অঞ্চল ভিত্তিক পরিকল্পনা-মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনায় পৃথকভাবে রাজধানী ঢাকা ও চট্রগ্রামে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০৬টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক আবাসন সুবিধার জন্য পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬২ হাজার ফ্ল্যাট, ঝিলমিল প্রকল্পে পিপিপি এবং জি টু জি প্রকল্পে ১০ হাজার ৯৪৪ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে। এছাড়া ঢাকার কড়াইল-লালাসাই ও মহাখালিতে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে ৪ হাজার ৬৬২ টি ফ্ল্যাট, মিরপুরে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে আরো ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে।
ইত্তেফাক/এএম।
