বেনাপোল বন্দরে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির পণ্য চালান আটকের পর বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনের নামে পোর্ট থানায় মামলা করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। পুলিশ দুইদিনে পাঁচজনকে আটক করে যশোর আদালতে পাঠিয়েছে।
এ মামলার সঙ্গে জড়িত এখনো এক জনকে আটক করতে পারিনি পুলিশ। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার মারুফুর রহমান।
এদিকে বন্দরের ২৯ নম্বর শেডের ওয়ার হাউজ সুপারিন্টেনডেন্ট হারুন অর রশীদ ঘটনার দিন থেকে বেনাপোল বন্দর এলাকায় থাকলেও তাকে দেখা যাচ্ছে না। রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে এ-শেড ইনচার্জ জড়িত রয়েছে বলে জানান আটককৃতরা। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ব্যবসায়ীদের মাঝে সন্দেহের দানা বাধতে শুরু করেছে।
এ-শেড ইনচার্জ দীর্ঘদিন রাজস্ব ফাঁকির সহায়তা করে আসছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এ দিকে সোমবার রাতে এ ঘটনার পর থেকে বেনাপোল বন্দরে বিভিন্ন শেডে ভারতে থেকে আমদানিকৃত কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মালামাল রাতের আঁধারে শেড ইনচার্জদের সহযোগিতায় বন্দর থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
পণ্যচালানটি কাগজপত্র ছাড়া কিভাবে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে তা তদন্তে মাঠে নেমেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বেনাপোল কাস্টম হাউসের শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক আব্দুস সাদেক জানান আমরা ঘটনার মূল উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার শওকাত হোসেন জানান, বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে একটি কাভার্ডভ্যানে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কাগজ পত্র ছাড়াই ভারতীয় থ্রি পিচ, ইমিটেশন জুয়েলারি ও কসমেটিকস সামগ্রী বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস স্যাগ কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে।
আলিফ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ট্রান্সপোর্ট বন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে মালামালগুলো লোড করে নিয়ে আসছিল। তবে মালামালের প্রকৃত মালিকের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ট্রাকের ড্রাইভার হেলপার, স্কটসহ বন্দরের দুই আনছারকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
