মানিকগঞ্জে বাল্য বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিটিয়ে আহত করেছে স্মৃতি আক্তার (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীকে। এই ঘটনায় সৎ মামা ও নানীকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ি এলাকা থেকে মামা রেজাউল করিম সাজু ও নানী লাভলী ইয়াসমীন ডলিকে আটক করা হয়। আহত ওই ছাত্রী ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ি গ্রামের প্রবাসী হুমায়ন কবিরের মেয়ে এবং সদর উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্মৃতি আক্তারের জন্মের মাত্র দুঘণ্টা পর মা বিলকিস আক্তার মারা যায়। এরপর পিতা হুমায়ুন কবির বিয়ে করেন। এরপর থেকে স্মৃতি তার নানার বাড়ি সদর উপজেলার গিলন্ড গ্রামে বসবাস করে আসছে।
গত ৩০ এপ্রিল স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর স্মৃতিকে তার সৎ মামা রেজাউল করিম সাজু দুই সন্তানের জনক এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু স্মৃতির বিয়ের বয়স না হওয়ায় এবং সে পড়া লেখা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। কিন্তু সৎ মামা ও নানী একাধিকবার বোঝানোর পরও বিয়েতে স্মৃতি রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ঘরের ভিতর আটকে রেখে পেটায়।
এতে স্মৃতি আহত হয়। এক পর্যায় নানার বাড়ি থেকে পালিয়ে ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি গ্রামে দাদার বাড়িতে যায়। স্মৃতির শারীরিক অবস্থা কথা জানার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে দাদি মমতাজ বেগম তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. লুৎফর রহমান জানান, স্মৃতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেছেন। সে ঝুঁকিমুক্ত।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইন চার্জ হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, শুক্রবার রাতে স্মৃতির নানী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সৎ মামা রেজাউল করিম সাজু, সৎ নানী লাভলী ইয়াসমীন ডলি, সৎ মা মালেকা বেগম এবং ওই পাত্রের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই রাতেই স্মৃতির সৎ মামা ও নানীকে আটক করেছে।
ইত্তেফাক/জামান
