ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ) ইউনিটে আজ রবিবার ভোর রাত থেকে বাণিজ্যিক ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্যাস ভিত্তিক এই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে আরও ৪‘শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।এই ইউনিটটি চালুর মধ্য দিয়ে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বৃহৎ এই ইউনিটটি উৎপাদনে আসায় দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমিয়ে আনার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্র কতৃপর্ক্ষ। নতুন এই ইউনিট থেকে পুরো ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করতে পেরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির নিজস্ব সাড়ে ১০ একর ভূমির উপর গত ২০১৪ সালে এপ্রিল মাসে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ) ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এডিবি ও আইডিবির ঋণ সহায়তায় বৃহৎ এই ইউনিটটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬‘শ কোটি টাকা। সরকার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব তহবিল থেকে ২‘শ ৫০ কোটি টাকা এবং এডিবি ও আইডিবির ২ হাজার ৩‘শ ৫০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তায় এই ইউনিটের নির্মাণ কাজ করেছেন যৌথ ভাবে স্পেন এর টিএসকে ও টিআর নামে ২টি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরে নির্মাণ কাজ শেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কমিশনিং কাজ শুরু করা হয়। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫ মাস পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে আজ রবিবার ভোরে এই ইউনিট পুরো ক্ষমতায় উৎপাদনে আসে।
এ ব্যাপারে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ) ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ করে পুরো ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বর্তমানে এই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪‘শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ইউনিটটি চালু হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি যেমন কমিয়ে আনবে তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি। এডিবি ও অইডিবির ঋণ সহায়তায় বৃহৎ এই ইউনিটটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬‘শ কোটি টাকা।
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এম সাজ্জাদুর রহমান জানান, ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (নর্থ) ইউনিট বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই ইউনিট থেকে বর্তমানে ৪‘শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সচল ইউনিটগুলো থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। নতুন এই ইউনিটটি উৎপাদনে আসায় আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া ৪‘শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন আরও একটি ইউনিট স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইত্তেফাক/এমআই
