দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে বরিশাল-ঢাকাসহ সকল রুটের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
এ কারনে বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চল থেকে সোমবার রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি এবং ঢাকা থেকেও বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চলের উদ্দেশ্যে কোনো লঞ্চ ছাড়েনি।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু আজ সোমবার রাত সাড়ে ৯ টায় এই তথ্য জানিয়ে ইত্তেফাককে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ থাকবে।
সোমবার রাতে বরিশাল নৌবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে ঢাকাগামী সুরভী-৯, পারাবত-১১, সন্দুরবন-১২ ও তাজরিস-১ লঞ্চ’র যাত্রা আকস্মিক বাতিল হওয়ায় বরিশাল নদী বন্দরে কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েছে। লঞ্চ গুলো যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে সুরভী-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার সফিক আহমেদ জানান।
দূর থেকে আসা যাত্রীরা নদী বন্দরে আশ্রয় নিলেও অধিকাংশ যাত্রী বাড়ি ফিরে গেছেন।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে সোমবার দিনভর দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে কখনও গুড়িগুড়ি আবার কখনও মাঝারী ধরনের বৃস্টি হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আর এতে ঈদ মার্কেটের কেনাকাটায় ভাটা পড়েছে মানুষের। অনেক সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সব ধরনের পথচারীদের।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, মৌসুমী নিম্নচাপ স্থল নিম্নচাপে পরিনত হয়েছে। স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে মাঝারী কিংবা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নচাপের কারনে সমূদ্র বন্দরে ৩ নম্বর এবং অভ্যন্তরীন নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারী করা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
বিগত ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯ দশমিক ০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
নিম্নচাপটির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১-২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
