হাত হারানো ২ নেতার কৃত্রিম হাতের ব্যবস্থা করলেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৭, ২০:৩৭
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০ লাখ টাকা খরচ করে হাত হারানো দুই নেতার কৃত্রিম হাত লাগানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এই দুই নেতা হলেন পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস মমতাজ উদ্দিন খান এবং গুলশান থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি দিদারুল আলম সুমন। বিএনপির দাবি, তারা দু'জনই সরকারি সন্ত্রাসীদের বর্বরতার শিকার। শাসক দলীয় সন্ত্রাসীরা তাদের দুটো হাত কেটে দেয়।
 
জানা গেছে, ছাত্রলীগের হামলায় দুই হাত হারিয়েছেন সুমন। আর মমতাজের দুই হাত কেটে নিয়েছে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের লোকজন। হাত না থাকলেও আন্দোলন সংগ্রাম ও দলের কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যায় তাদের। একটি অনুষ্ঠানে হাত হারা এই দুই নেতা নজরে আসে বেগম জিয়ার। তিনি তাদের করুন অবস্থা অবলোকন করেন। চেয়ারপারসন তার বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে ঐ দুই নেতার ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে বলেন। শিমুল বিশ্বাস তাদের খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে অবহিত করেন বেগম খালেদা জিয়াকে। বেগম জিয়া দু’জনকে ডেকে হাত হারানোর বর্বরোচিত ঘটনা শুনে ব্যথিত হন। তিনি তাদের জন্য কী করা যায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। দুই নেতার পাশে দাঁড়ায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের উদ্যোগে ও তার নির্দেশনায় এই অসহায় দুই নেতার কষ্ট কিছুটা লাঘবের জন্য জার্মান থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দুইটি কৃত্রিম হাত সংগ্রহ করে তাদের শরীরে পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। সামগ্রিক বিষয়টি সমন্বয় করেন এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, চেয়ারপারসনের নির্দেশে আমরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব নিই। সুমন ও মমতাজের জন্য চারটি মায়ো ইলেকট্রিক হাত প্রতিস্থাপন করে দিই। তবে কৃত্রিম হলেও দুই হাত দিয়ে এখন তারা অনেকটা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন। আশা করা যায় তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক গতি আসবে।
 
ফরহাদ হালিম জানান, মায়ো ইলেকট্রিক হাত প্রতিস্থাপন করতে একেকজনের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। হাত প্রতিস্থাপনের পর মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন সুমন ও মমতাজ। এসময় তারা খালেদা জিয়ার হাতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ তুলে দেন। খালেদা জিয়া তাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। এসময় ফরহাদ হালিম ডোনার ছাড়াও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা সম্পাদক প্রফেসর ডা. রফিকুল কবির লাবু, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

ইত্তেফাক/এএম।