ইট তৈরি কাজের বকেয়া মজুরি চাওয়ার অপরাধে নারী ও শিশুসহ ৬২ জনকে দুই দিন অনাহারে একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ ইটভাটা মালিক আলিম ও মিজানের বিরুদ্ধে।
গত বুধবার রাতে ৯৯৯ এর সহযোগীতায় বন্দরের ফুনকুল এলাকার এ.বি.এফ ব্রিক ফিল্ড থেকে নারী ও শিশুসহ ৬২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে পুলিশ। বকেয়া ৫০ হাজার ৫ শত টাকা চাওয়ার অপরাধে মালিক পক্ষ উল্টো ৪ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে শ্রমিকদের ২ দিন অনাহারে এক ঘরে আটকে রাখে।
কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনোয়ার হুসাইন জানান, বন্দর উপজেলা মুছাপুর ইউপি ফনকুল গ্রামের মৃত শফর আলীর ছেলে আলী আহম্মদ আলীম, বারপাড়া গ্রামের মৃত হাজী চাঁন মিয়ার ছেলে মিজান ও দাশেরগাঁও গ্রামের মৃত আফিজউদ্দিনের ছেলে সাহাবুদ্দিন মিলে ফনকুন এলাকায় এ.বি.এফ নামে একটি ব্রিক ফিল্ড পরিচালনা করে। এ ব্রিক ফিল্ডে ইট প্রস্তুত করার জন্য চুক্তিপত্র করে শেরপুর জেলার সদর থানার জিন্নত আলী ওরফে জিনি মিয়ার ছেলে কুতুবউদ্দিনের সঙ্গে।
প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ইট তৈরির কাজ শুরু করে কুতুবউদ্দিন ও তার শ্রমিকরা। গত বুধবার থেকে কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টির কারণে ইট তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত ১ এপ্রিল রাতে ইটভাটার মালিক আলিম ও মিজানের কাছে ইট তৈরির মজুরির বকেয়া ৫০ হাজার ৫ শত টাকা চায় শ্রমিকরা। পরে মালিক আলীম ও মিজান উল্টো ৪ লাখ টাকা তাদের কাছে দাবি করে।
এ সময় ইটভাটা শ্রমিক কুতুবউদ্দিন বকেয়া টাকা থেকে খাবারের জন্য টাকা চায়। এতে মিজান ও আলীম ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে ইটভাটার এক ঘরে আটকে রাখে। অনাহারে দুই দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ইট ভাটা শ্রমিকরা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে তাদের উদ্ধারের জন্য সহযোগিতা চায়। ৯৯৯ নাম্বারের এর সংবাদের ভিত্তিতে কামতাল তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ ওই ইটভাটার ঘর থেকে ১৪জন নারী ও ৯জন শিশুসহ মোট ৬২জনকে উদ্ধর করে।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মালিক মিজান ও আলীম পালিয়ে যায়। পরে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইয়ানবীর মাধ্যমে বকেয়া ৫০ হাজার ৫শ টাকা আদায় করে শ্রমিকদের শেরপুর নিজ গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ শিশু গৃহকর্মীকে ৬ মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, গৃহকর্তা গ্রেফতার
বন্দর ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ দেওয়ানের কাছে এ বিষয়ে জানতে তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/নূহু
