সখীপুরে পাড়ায় পাড়ায় ‘গোস্ত সমিতি’

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৭, ২০:০০
টাঙ্গাইলের সখীপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘গোস্ত সমিতি’। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে এ বছর শতশত গোস্ত সমিতি গড়ে উঠেছে। 
 
সারা বছর অল্প অল্প সঞ্চয় করে ঈদের আগে পশু কিনে জবাই করে গোস্ত ভাগ করে নেন সমিতির সদস্যরা। এটি ঈদে তাদের বাড়তি আনন্দ দেয়, আর্থিক চাপ কমে যায়। 
 
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া বা মহল্লায় এ ধরনের গোস্ত সমিতি গঠন করা হয়। সমিতির সদস্য বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আট-নয় বছর আগে দু-এক জায়গায় এ ধরনের সমিতি চালু হয়। পরে প্রতি বছর সমিতির সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ বছর টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সমিতির সংখ্যা পাঁচশ’র মতো হবে বলে তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত থাকেন। তারা প্রত্যেকে প্রতি সপ্তাহে বা মাসে নির্ধারিত হারে চাঁদা বা সঞ্চয় জমা দেন। পরে জমা করা টাকায় ঈদের দু-এক দিন আগে গরু বা ছাগল কিনে এনে জবাই করে গোস্ত ভাগ করে নেন। ওই গরু বা ছাগলের চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে প্রাথমিক তহবিল করে শুরু হয় পরের বছরের জন্য সমিতির কার্যক্রম। শুরুতে শুধু নিম্নবিত্তের লোকেরা এ ধরনের সমিতি করলেও এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরাও সমিতি করছেন।
 
উপজেলার কুতুবপুর শাপলাপাড়া এলাকায় এ ধরনের একটি সমিতি গঠন করেছিলেন কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কদ্দুছ মাখন। তিনি জানান, তাদের সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০, প্রত্যেকে সপ্তাহের সোমবারে ৫০ টাকা করে জমা দিতেন। এখন সমিতির সদস্য দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে।
 
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ধরনের একটি সমিতি গঠন করেছেন। এতে প্রতি ঈদে নিজেদের পছন্দ মতো গরু কিনে এনে ভালো গোস্ত নিতে পারছেন। গৃহিণী মনোয়ারা বেগম জানান, ঈদে পরিবারের সবার জন্য নতুন জামা কাপড় কিনতে অনেক টাকা লেগে যায়। আর ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়নে অনেক গোস্ত লাগে। সমিতি করলে অনায়াসে ১০-১২ কেজি গোস্ত পাওয়া যায়। সমিতিতে সাপ্তাহিক কিস্তি দেয়ায় গোস্তের খরচটাও গায়ে লাগে না।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি