ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। চার থেকে পাঁচগুণ ভাড়া দিয়েও বাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। মহাসড়কের দুই পাশ থেকেই লেগুনা বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শনিবার মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন বাস স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে যাত্রীরা বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোধে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদে দীর্ঘ ছুটি শেষে শনিবার থেকে যাত্রীদের নিজ নিজ অফিসে যাওয়ার পালা শুরু হয়েছে। আগামীকাল রবিবার প্রথম কর্মদিবসে তাদের অফিস করতে হবে। এ জন্য কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাত্রীরা। সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলছে যানবাহনের তীব্র সঙ্কট। দূর-পাল্লার যাত্রীরা বাস, ট্রাক ও পিকআপভ্যান রিজার্ভ এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন সহানে যাতায়াত করছেন। বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ও লোকাল যাত্রীরা। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার ভাড়া একশত টাকা। সেই একশত টাকার ভাড়া চার থেকে পাঁচগুণ দিয়েও যানবাহনে উঠা যাচ্ছে না বলে মহাসড়কে দাড়িয়ে থাকা যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
পাকুল্যা বাস স্টেশনে বাসের জন্য দাড়িয়ে রয়েছেন গার্মেন্টস কর্মী মনোয়ারা (৩০)। তার গ্রামের বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া গ্রামে। তিনি কোনাবাড়ি একটি গার্মেন্টসে হেলপারের চাকরি করেন। তিনি জানান, পাকুল্যা বাস স্টেশনে শনিবার সকাল নয়টা থেকে বাসে উঠার জন্য অপেক্ষা করছেন। দুপুর দুইটার সময়ও বাসে উঠতে পারেননি। পাকুল্যা থেকে কোনাবাড়ির ভাড়া ৫০ টাকা। চারগুণ ভাড়া দিয়েও বাসে উঠতে পারছেন না বলে মনোয়ারা অভিযোগ করেন। তারমত শতশত যাত্রীদের এ অবস্থা। একই অবস্থা দেখা গেল কদিমধল্যা, কুরনী, মির্জাপুর বাইপাস, দেওহাটা ও গোড়াই বাস স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের।
এ ব্যাপারে বাস শ্রমিক মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৫) এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এখন ঈদের ছুটি শেষ। যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা দূর পাল্লার যাত্রী বেশি ভাড়া নিয়ে চন্দ্রা, বাইপাইল, কোনাবাড়ি, চৌরাস্তা ও মহাখালী নিয়ে থাকি। লোকাল কোন যাত্রী বাসে উঠাইনা। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার ভাড়া একশত ও একশত বিশ টাকা। সেখানে আমরা নিচ্ছি তিনশ'-চারশ' টাকা।
এ ব্যাপারে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম হলেও যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশী। যাত্রীদের অনুপাতে মহাসড়কে যানবাহন অনেক কম। ফলে যানবাহনের জন্য যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন।
ইত্তেফাক/জামান
