ইরাকের মসুল শহর দখলের শেষ পর্যায়ে এসে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে ইরাকি বাহিনীর প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়েছে। নারী সদস্যদের ব্যবহার করে আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
ইরাকি সেনারা দাবি করেছেন, অভিযান চালাতে গিয়ে তারা জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার শিকার হচ্ছেন। এই হামলাকারীদের অধিকাংশই নারী। ইরাকি সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সামি আল-আরিদি এএফপিকে বলেন, ‘শত্রুরা (আইএস) আত্মঘাতী বোমারুদের ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তারা নারী বোমারুদের ব্যবহার করছে। গত তিন দিনে আশপাশের এলাকায় (মসুলের) এ রকম বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে তারা প্রতিরোধের জন্য স্নাইপার ও বোমা ব্যবহার করত।’ আল-আরিদি জানান, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরী।
এপির এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, গত সোমবার ইরাকি সেনাদের ওপর দুটি আত্মঘাতী হামলা চালায় নারী জঙ্গিরা। একই দিন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেসামরিক নাগরিকদের উপর এই হামলা চালায় আইএস। ইরাকি এক কর্মকর্তা জানান, দুইজন হামলাকারী সুইসাইড বেল্ট পড়ে সাধারণ মানুষদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজন নারীও ছিল। এই ঘটনায় পাঁচ শিশু, ১০ নারী ও আটজন পুরুষ মারা যান।
এছাড়া আরেকটি মর্টার হামলায় অন্তত নয়জন জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আত্মঘাতী হামলা এড়াতে অভিযানে অংশগ্রহণকারী কমান্ডাররা ওই এলাকার নারীদের সেনাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বোরকা খুলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পুরুষদেরও জামা খুলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, আইএস জঙ্গিরা মসুলের ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটকে রেখে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০১৪ সালে ইরাকের প্রাচীন শহর মসুল দখল করে একে কার্যত রাজধানী হিসেবে ব্যাবহার করেছিল আইএস। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আইএসের বিরুদ্ধে মসুলে জোর হামলা চালিয়ে আসছে ইরাকি বাহিনী। তাদের সঙ্গে এই অভিযানে যোগ দিয়েছে কুর্দি পেশমের্গা যোদ্ধা, সুন্নি ও শিয়া মিলিশিয়ারা। তাদেরকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর যুদ্ধবিমান ও সামরিক উপদেষ্টারা।
ইরাক সরকার ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসেই মসুলের পূর্বাঞ্চলকে মুক্ত ঘোষণা করে। বেশ কিছুদিন আগে শহরটিতে আইএসের সর্বশেষ ঘাঁটি গ্র্যান্ড আল-নুরি মসজিদ দখল করে নেয় ইরাকি বাহিনী। তারা আশা করছে, কিছুদিনের মধ্যেই পুরো শহরটি থেকে আইএসকে বিতাড়িত করা যাবে। এ অভিযানে অংশ নেওয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া রসুল ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘বিজয় অতি সন্নিকটে। এ যুদ্ধ পাঁচ দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে।’ বিবিসি, রয়টার্স ও আল জাজিরা।
ইত্তেফাক/সাব্বির
