কুমিল্লায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফারজানা আক্তার হেপী নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে এসিড মেরে হত্যার ঘটনায় সাত আসামির মধ্যে একজনকে ফাঁসি এবং অপর ছয়জনকে খালাস দিয়েছে কুমিল্লার একটি আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিন নম্বর আদালতের বিচারক এম আলী আহাম্মদ এ রায় প্রদান করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছে।
আদালত ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলার দাউদকান্দি উপজেলার জামালকান্দি গ্রামের কালু বেপারীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন পার্শ্ববর্তী সোনাকান্দা গ্রামের কাজী জালাল উদ্দিনের মেয়ে ও উপজেলার খন্দকার মোশারফ হোসেন মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার হেপীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু সে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে অভিযুক্ত সাদ্দাম তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বিগত ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর গভীর রাতে হেপীর বাসার জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে হেপি ছাড়াও তার বোনের ছেলে ফয়সাল মাহমুদ, কাজের মেয়ে খাদিজা আক্তার আহত হন। হেপিকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা এসিড সারভাইভাস ফাউন্ডেশনের হাসপাতালে ভর্তি করার পর ২২ দিন পর ওই হাসপাতালে সে মারা যায়।
১২ নভেম্বর হ্যাপির বাবা দাউদাকান্দি মডেল থানায় সাদ্দামসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার দুই মাস পর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ৩৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩১জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে সাদ্দামকে ফাঁসি এবং অপর ছয়জনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেয়া হয়। খালাস প্রাপ্তরা হচ্ছেন- জামালকান্দি গ্রামের তারেক হোসেন জনি, সোনাকান্দা গ্রামের রাসেল মিয়া, শাহদাত হোসেন বাবু, আমিন উদ্দিন, মো. শাহিন ও আসমা আক্তার।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি মো. নূরল ইসলাম মামলার এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে মামলার বাদী হেপির বাবা কাজী জালাল উদ্দিন জানান, প্রধান আসামির ফাঁসির আদেশ হলেও তার সহযোগীরা মামলার অভিযোগ থেকে খালাস পেয়ে গেছে, তাই তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন ফেরদৌস, জসিম উদ্দিন শিশু ও আলী আক্কাস।
ইত্তেফাক/জামান
