বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘‘গুম, খুন ও অপহরণের সংস্কৃতি ক্ষমতাসীনদের বৈশিষ্ট্য। গোটা জাতি বিশ্বাস করে ফরহাদ মজহারকে আপনারাই গুম করেছেন। এখন যত যাই কথাই বলেন না কেনো। ফরহাদ মজহারকে গুম করার ১৬ ঘন্টা আগে ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটিতে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদ করেছিলেন। ফ্রিজে গরুর গোশত রাখা আছে এই কারণে মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। খাসির গোশত রাখা আছে তারপরও বলা হচ্ছে গরুর গোশত রাখা আছে। এভাবে মুসলামানদের ওপর চড়াও হচ্ছে। এই যে বড় অন্যায়। সবার মানবাধিকার থাকবে মুসলমানের মানবাধিকার থাকবে না। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন মাহমুদুর রহমান। সেখানে পাশে বসেছিলেন বিশিষ্ট কবি ফরহাদ মজহার। এই অপরাধে তাকে গুম করা হয়।’’
বুধবার রাজধানীর বাড্ডায় সঞ্জি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দলের প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনকালে রিজভী এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, জনদৃষ্টিকে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফরহাদ মজহারকে গুম করা হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ৯০ থেকে ৯১ ভাগ মুসলমান। ভারতেই এই অন্যায় আচরণের একটি সেন্টিমেন্ট এখানে হতে পারে। সেই সেন্টিমেন্ট যাতে না হয়। সেটাকে অন্যদিকে ধাবিত করার জন্যই ফরহাদ মজহারকে গুম করা হয়। এইযে নাটক, এর নাটকের ডাইরেক্টর, প্রডিউসার, প্রোডাকশন ম্যানেজার সব কিছুই হচ্ছে সরকার। অন্য কেউ নয়। কিন্তু এই কথা বললে সরকারের মন্ত্রীরা খুব রাগ করেন, উষ্মা প্রকাশ করেন।
রিজভী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অপহরণ ও গুমের ঘটনা সবইতো সরকারের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে। এটা যদি কোনো ছিঁচকে সন্ত্রাসী হতো তাহলে এক কথা হতো। আমরা দেখেছি আপনাদের বৈশিষ্ট্য বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হীরু, হুমায়ুন পারভেজ, বিএনপির জনপ্রতিনিধি চৌধুরী আলম তাদেরকে গুম করেছেন। এই কাজগুলো আপনারা করেছেন।
বাড্ডা থানা বিএনপির সভাপতি এজিএম শামসুল হকে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, মহানগর উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সী বজলুল বাছিদ আঞ্জু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
