দৌলতপুরে প্রতিরক্ষামুলক বাঁধ ধসে ৩ শতাধিক বাড়ি-ঘর বিলীন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৭, ২২:৩৭

যমুনা নদীর করাল গ্রাসে ও ভয়াল ভাঙনের শিকার মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা সদর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলে ৩ শতাধিক বাড়ি-ঘর বিলীন হয়েছে। চরাঞ্চলের চরকাটারী ইউনিয়নের লালপুর, চরকাটারী, কাঠালতুলি, চরকাটারী মন্ডলপাড়া, বোর্ড ঘর বাজার, চরকাটারী বাজার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

যমুনা নদী ভাঙন রোধে প্রতিরক্ষা মুলক বাঁধে(জিও)ব্যাগে ধস দেখা দেওয়ায়  হুমকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, বাজার, রাস্তাঘাট, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস সহ শত শত বাড়ি-ঘর জায়গা জমি। চলতি মৌসুমে ৩ শতাধিক বাড়ি-ঘর আবাদী জমিজমা বিলীন হয়েছে। এছাড়া বাচামারা, বাঘুটিয়া ইউনিয়নে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে ।

এ বছর নদীতে পানি আসার এক মাস আগে চরকাটারী ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনা নদীর পূর্ব পারে ভাঙন রোধে ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগে বালিভর্তি অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরি করে। কিন্তু তারপর নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতে ও  নদী ভাঙনে সে বাঁধ ধসে গেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়েক শত বিঘা আবাদী জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

যমুনা নদীর চরে নিজের ভিটে মাটি হারিয়ে অন্যের জমির ওপর বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

চরকাটারী মণ্ডল পাড়ার আব্দুল খালেক মণ্ডল এ প্রতিবেদককে জানান, নদী ভাঙনের  ফলে এই বাড়িতে আর থাকতে পারুম না। চরকাটারী বোর্ড ঘর বাজার এলাকার আলমগীর হেসেন বলেন, যমুুনা নদীর ভাঙনে বাড়ি, জায়গা জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে এখন অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে কোন মতে থাকি।

এ বিষয়ে চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক মণ্ডল জানান, যমুনা নদীর ভাঙনে চরকাটারী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্র ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শত শত বাড়ি-ঘর, আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে এস.ও .ই আ: হামিদ জানান, ভাঙন রোধে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বালিভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে  ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা বলেন, চরকাটারী ইউনয়নে ভাঙন রোধে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। কিছু স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বয়ে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস.ডি.ই আ: হামিদ, উপজেলা  প্রকৌশলী আব্দুল বারেক মণ্ডল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, চরকাটারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক মণ্ডল, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হিপু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক প্রমূখ।

বুধবার শিবালয়ের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের গরীব ও দুস্থদের মাঝে ভিজি এফ এর গম বিতরণ করছেন সংসদ সদস্য এ. এম নাঈমুর রহমান দূর্জয়।

ইত্তেফাক/নূহু