প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাধারণ মানুষ এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সশস্ত্র বাহিনী মিলে যেভাবে লড়ছে, তাতে বাংলাদেশে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ সফলভাবে তা মোকাবিলা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলে মিলেই কিন্তু এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছি, যা বিশ্বব্যাপী একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ধারাটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে কোনো মতেই বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান না হয়। গতকাল বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বাহিনীর ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জঙ্গি নিয়ন্ত্রণের মতো মাদক নির্মূলেও সফলতা আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কাজ করে যাব, যাতে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দেশ পেয়েছি, সে দেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের দায়িত্ব ও কাজ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার প্রতিষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট কালের আবর্তে আজ স্বমহিমায় উজ্জ্বল ও ঐতিহ্যে ভাস্বর। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা দায়িত্ব ও রাষ্ট্রাচার অনুষ্ঠানে আপনাদের ভূমিকা আজ সর্বজন স্বীকৃত ও প্রশংসিত। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান— সবকিছু উপেক্ষা করেও আপনারা দায়িত্ব পালনে অটল থাকেন। আপনাদের এই একনিষ্ঠ কর্তব্য পালন আমাকে মুগ্ধ করে, গর্বিত করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পিজিআর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি সরকার প্রধানের নিরাপত্তার দায়িত্ব এই রেজিমেন্টের উপর বর্তায়। এই রেজিমেন্টের যেসব সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় আত্মত্যাগ করেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট তার চিরাচরিত সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যতে অধিক সফলতা অর্জনে সক্ষম হোক। আত্মবিশ্বাসী পদভারে তারা আরো সামনে এগিয়ে যাক। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পিজিআর সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো, ভাতা বাড়ানো, আবাসন সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বাহিনীটির সদস্যদের দক্ষতা ও উত্কর্ষ আরো বাড়াতে প্রশিক্ষণের উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এসময় সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করে তুলতে সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ নিয়েছি।
এসময় শেখ হাসিনা জনকল্যাণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উন্নয়ন করে যাচ্ছি, যার সুফল মানুষ পাচ্ছে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো, গড় আয়ু বাড়ানোসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরেন তিনি। বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানো, বিনামূল্যে বই বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, গৃহহারাদের ঘর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দপ্তরে আসলে রেজিমেন্টের কোয়াটার গার্ডে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক এবং পিজিআর-এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকল অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এক দল চৌকস গার্ড তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।
তিনি সকলের উপস্থিতিতে রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় নিহত শহীদদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং তাদের মাঝে উপহার সামগ্রী ও অনুদান হস্তান্তর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকলের সঙ্গে পিজিআর-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অবঃ), নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল আবু এসরার, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নুল আবেদীন, বীর বিক্রম, পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আখতার হোসেন ভুঁইয়া ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পিজিআর দেশের ও বিদেশ থেকে আগত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সরকারিভাবে ঘোষিত যেকোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্বসমূহ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সকল প্রকার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে।
ইত্তেফাক/নূহু
