ঈদের আগেই খবরটা চাউর হয়েছিল। গণমাধ্যমেও উঠে এসেছিল কিছু তথ্য। এবার বিসিবির দুয়ারে হাজির হলেন ক্রিকেটার মোহাম্মদ শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। গতকাল রবিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদের বিরুদ্ধে বিসিবি সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফারজানা আক্তার। দুই সন্তানসহ এসে চার পাতার অভিযোগপত্র বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছে জমা দিয়ে গেছেন এ পেস বোলারের স্ত্রী।
পরে এ বিষয়ে ফারজানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিসিবিকে জানানো হয়েছে। বিসিবি সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ওরা ওর বাবাকে (শহীদ) ডেকে সব সমস্যার সমাধান করে দেবে বলেছেন।’
তবে শহীদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ খোলাখুলি বলতে চাননি ফারজানা। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার অভিযোগগুলো লিখিত দিয়েছি। যেটা হয়েছে, তার সব ওনাদের (বিসিবি) কাছে জানানো হয়েছে। ওনারা বলেছেন, সমস্যার সমাধান করে দেবেন। যদি সমাধান না হয়, বিচার না হয়, আমি বলব। ওনারা আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।’
চার পাতার অভিযোগপত্রে অবশ্য শহীদের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগই করেছেন ফারজানা। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের। তখন আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকলেও তাদের সংসার সুখের ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে শহীদ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে টেস্ট খেলার পরই বদলে যাওয়ার শুরু। এবং এই সময়ে একাধিক নারীর সঙ্গে শহীদের ঘনিষ্ঠতা হয়েছে বলে দাবি ফারজানার।
শহীদ-ফারজানার সংসারের প্রথম সন্তান ছেলে আরাফের বয়স আড়াই বছর। বর্তমানে ১১ মাস বয়সী মেয়ে আরোহী গর্ভে থাকা অবস্থায় শহীদ ফারজানার পেটেও লাথি মেরেছেন। সাংসারিক অশান্তি বেড়ে গেলে ফারজানা মুন্সিগঞ্জে বাবার বাড়ি চলে যান। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সমাধান না হওয়ায় বিসিবির দ্বারস্থ হয়েছেন ফারজানা। বর্তমানে সন্তানসহ বাবার বাড়িতেই থাকছেন তিনি।
এ বিষয়ে ক্রিকেটার শহীদ বলেছেন, ‘বিষয়টির মীমাংসা হয়ে গেছে। আমার স্ত্রী বাড়ি চলে যাবে।’ বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন ফারজানা অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিষয়টা পারিবারিক; তাই আমরা দুই পরিবার এক সঙ্গে বসে মিটিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছি।’
গতকাল ফারজানা বিসিবিতে আসার পর মুঠোফোনে কথা হয় শহীদের সঙ্গে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এ সময় বিসিবি একাডেমিতে থাকা শহীদ স্ত্রীকে দ্রুত বাড়ি চলে যেতে বলেন। তিনি সংসার না করলে বোর্ড কিছু করবে না বলে হুমকি দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। জেল খেটেছেন তিনজন। রুবেল হোসেন, আরাফাত সানির পর শহীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠল। শাহাদাত হোসেন রাজীবের বিরুদ্ধে উঠেছিল শিশু নির্যাতনের খবর। সবগুলোই আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। যা নিশ্চিতভাবেই দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তির জন্য ভালো খবর নয়।
ইত্তেফাক/এমআর
