গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সোমবার আরো অবনতি হওয়ায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যায় জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ চরাঞ্চল বেষ্টিত ৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া নদী ভাঙনে এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ১৩০টি পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে জিগাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিগাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ও জিগাবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দিরা এখনো সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পায় নাই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৭ সে. মি. উপর ও ঘাঘটের পানি বিপৎসীমার মাত্র এক সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া তিস্তা, যমুনা ও করতোয়ার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সাঘাটার জুমারবাড়ি থেকে সুন্দরগঞ্জের তারাপুর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশকিছু এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। কোথাও কোন সমস্যা হবে না। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরীভাবে ১২৫ মে. টন চাল ও ১০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
