নতুন নীতিমালার অপেক্ষা: যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৭, ০৯:৫৪
 
যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা দুই ভাগে বিভক্ত। আর তাদের এই দ্বন্দ্বের কারণে গত কয়েক মাস ধরেই চলচ্চিত্র পাড়ায় শুরু হয়েছে অস্থিরতা। রাস্তায় আন্দোলন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদ চলছে নিয়মিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই আলোচনার সমাধান কোথায়? এই প্রশ্ন ছিল মূখ্য।
 
কারণ ঈদের আগে বেশ জোড়ালো আন্দোলনের পরেও মুক্তি পেয়েছে দুটি যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র। এমনকি ছবি দুটির ব্যবসায়িক সফলতা নিয়েও অনেক ইতিবাচক ও নেতিবাচক আলোচনা চলেছে। অন্যদিকে যৌথ প্রযোজনার অনেক চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় আর কয়েকটি ছবি নির্মাণাধীন। সব মিলিয়ে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের সঠিক নীতিমালা নিয়ে ছবিগুলো প্রশ্নবিদ্ধ।
 
অবশেষে ঘোলা জল থেকে বেরিয়ে এলেন সবাই। আপাতত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধ। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকার থেকেই। গত রবিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সচিব মরতুজা আহমদ বলেছেন, ‘যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র আপাতত বন্ধ। নতুন সংশোধিত নীতিমালা না হওয়া পর্যন্ত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত কোনো চলচ্চিত্রকে অনুমোদন ও ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।’
 
এই ঘোষণার পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, কোরবানির আগেই দেশের অন্তত ৫০টি সিনেমা হল ডিজিটাল প্রযুক্তি সংযোজন করা হবে। এই ঘোষণার পর অনেকটা স্বস্তিতে আছেন শিল্পী সমিতিসহ আন্দোলনও প্রতিবাদকারী বিভিন্ন মহল। সবাই চাওয়া যৌথ প্রযোজনার ছবির সংশোধিত নীতিমালায় যেন চলচ্চিত্রের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকে।
 
তথ্যমন্ত্রীর সাথে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ, চিত্রনায়ক ফারুক, আলমগীর, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু প্রমুখ। যৌথ প্রযোজনা নীতিমালার এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন অর রশীদকে।
 
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুযায়ি শিগগিরই আমরা একটি কমিটি গঠন করব। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে বসা হবে। তাদের মতামত নিয়ে সবকিছু বিবেচনা করে আমরা ন্যূনতম সময়ের মধ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করা হবে।’
 
মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল সরকারের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসা হবে। আমাদের চলচ্চিত্রের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি ছিল।
 
আমরা এখন দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, আমাদের উদ্দেশ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। যৌথ প্রযোজনায় ছবি তৈরির নীতিমালা যথাযথভাবে সংশোধন করা সম্ভব হলে যৌথ প্রযোজনার এসব প্রতারণা বন্ধ হবে।’ খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমরা এখন চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করি সঠিক একটি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।’
 
নিজের অনুভুতি জানাতে গিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘এই বৈঠক আমাদের সফলতা। কারণ আমরা সবাই আন্দোলনে গিয়েছি বলেই এই বৈঠক সম্ভব হয়েছে। এখন অপেক্ষা সুষ্ঠু একটি নীতিমালার। আমি বিশ্বাস করি চলচ্চিত্রের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই নতুন যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা করা হবে। চিত্রনায়িকা মৌসুমি বলেন, ‘ভালো কিছু হোক। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেন মানুষের বিভ্রান্তমূলক কথা থেকে দূরে থাকি।’
 
ইত্তেফাক/আনিসুর