নন্দীগ্রামে গরীব কৃষকের ধানক্ষেতে দুর্বৃত্তের বিষ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৭, ২৩:৩২

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পল্লীতে এক গরীব কৃষকের ধানক্ষেতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করেছে দূর্বৃত্তরা। এতে তার এক একর জমির ধান গাছ পুড়ে গেছে। উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের সরিষাবাদ মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরিষাবাদ গ্রামের আলহাজ্ব রইচ উদ্দিনের ছেলে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ৫০ হাজার টাকায় এক একর জমি লিজ নিয়ে আলু চাষ করে। আলু উত্তলনের পর ওই জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপন করে। ধান গাছ কিছুটা বড় হলে কে বা কারা জমিতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে। ফলে ওই এক একর জমির ধান গাছ পুড়ে যায়।  

কৃষক আব্দুর রাজ্জাকের স্বপ্ন ছিল ওই জমি থেকে ৭০ হাজার টাকার ধান বিক্রি হবে। আর সেই টাকা থেকে ধার দেনা শোধ করার পর সংসারের ভরণ-পোষণ চালাবে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা বিষ দিয়ে ক্ষেত পুড়িয়ে দেওয়ায় তার সেই স্বপ্ন পুরণ হলো না। ফসল হারিয়ে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক এখন নির্বাক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা একের পর এক কৃষকের ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ধান ক্ষেত নষ্ট করে দিচ্ছে। কারা করছে, কেন করছে সেটা তারা জানতে না পারলেও শত্রুতার জের ধরে এসব ঘটনা ঘটছে বলে তারা জানিয়েছেন।

কৃষক রাজ্জাকের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী গ্রামের কারো কোনো ক্ষতি করেননি। অথচ নিরীহ সেই মানুষটির মুখের আহার কেড়ে নিল দুর্বৃত্তরা।

গ্রামের কৃষক শাহীন হোসেন অভিযোগ করেন, গ্যামোক্সিন নামের কীটনাশক আগাছানাশক বিষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দুর্বৃত্তরা সেটার অপব্যবহার করছে। তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় এ কীটনাশক বিক্রির দাবি জানান।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার মোহা. মুশিদুল হক জানান, বিষ প্রয়োগ করে ক্ষেত পুড়িয়ে দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু