কোটি টাকা খরচ করে পিরোজপুর পৌর এলাকার দামোদর খালসহ শাখা খালসমূহের পুনর্খনন কাজ যখন শেষের পথে তখন পৌর বাজারের পাশে এই দামোদর খালের তীরে চলছে অবৈধ দখল। বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা ঘর তুলে খালের নাব্যতা যেমন বিনষ্ট করছে তেমনি ভরাট করছে তীরও। আব্দুর রশীদ নামে একজন মৃত মাছ ব্যবসায়ীর আড়ত ঘর সংস্কারের নামে কয়েক দিন ধরে এই ঘরের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে তার ছেলে এ বেআইনি কাজটি করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষীয় অনুমোদন ছাড়াই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর বাজারের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবাহিত দামোদর খালটি বর্ষাকালে নাব্য থাকলেও শুকনো মৌসুমে সেখানে পানি শুকিয়ে যায়। পিরোজপুর জেলা শহরের মধ্য থেকে প্রবাহিত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল দিয়ে এক সময় স্টিমার চলাচল করতো। দেড়শ বছর আগে শহরের প্রবেশদ্বার হুলারহাট স্টিমার স্টেশন থেকে ছেড়ে এই নদী দিয়েই বাগেরহাটে স্টিমারসহ বড় বড় বাণিজ্যিক নৌকা চলাচল করতো। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এ নদী তারপরও হুলারহাট-পিরোজপুর পথের কালিগঙ্গা-বলেশ্বর নদের যোগাযোগের একমাত্র নৌ-পথ হিসাবে এখনো বেঁচে আছে। যা পিরোজপুর শহরের প্রাণ হিসাবে স্বীকৃত এবং নৌ যোগাযোগ ও শহরতলীর কৃষি জমির সেচ কাজসহ শহরের পানি নিষ্কাশনের পথ হিসেবে গুরুত্বের সাথে কার্যকর রয়েছে। দামোদর খাল ও এর শাখা খালগুলোর নাব্যতা রক্ষার জন্য বর্তমানে পৌরসভা বিশেষ প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন কাজ করে চলছে। কিন্তু পৌর বাজার সংলগ্ন খালের তীর কাঁচা-পাকা ঘর, কংক্রিকেটর সিঁড়ি, অস্থায়ী পাইলিং ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণের নামে অবৈধ দখল যুক্ত হওয়ায় দামোদর খাল তার অস্তিত্ব ক্রমান্বয়ে হারিয়ে ফেলছে।
ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান শেখ আলম বলেন, একজন মত্স্য ব্যবসায়ী তার মরহুম পিতার নির্মিত পুরোনো ঘর। এ ঘরটি মেরামতের নামে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে স্বীকার করে আলম বলেন, সম্প্রসারণ কাজ করতে উক্ত ব্যবসায়ীকে বারণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
