নব্য জেএমবির আমির কে?

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৭, ০৮:৫৫
 
একের পর এক শীর্ষ জঙ্গি নেতা আটকের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের নব্য জেএমবির আমির বলে দাবি করা হয়। এ পর্যন্ত ১১ ব্যক্তির নাম নিষিদ্ধ এই সংগঠনের আমির হিসেবে আলোচনায় এসেছে বিভিন্নভাবে। জঙ্গিদের কয়েকটি শাখার নামও বিভিন্নভাবে আলোচনায় আসছে। কেউ কেউ আইএস ভাবাদর্শে শাখার নাম প্রচার করে আসছে। আসলে জঙ্গি সংগঠনের নাম যাই হোক না কেন মূল লক্ষ্য একই। সমপ্রতি আবু আল-বাঙালি নামে এক ব্যক্তিকে নব্য জেএমবির আমির বলে দাবি করা হয়। তবে বাক্কিয়্যাহ মিডিয়া স্ট্রাইকের পক্ষ থেকে এটি সঠিক নয় বলে জানানো হয়।
 
এখন কথা হচ্ছে, নব্য জেএমবির আমির আসলে কে? দাবিদার অনেকে থাকলেও আসলেই তারা নব্য জেএমবির প্রধান কিংবা আমির কী না সে বিষয়ে সত্যতা পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই বিভিন্ন সময় একেক জনকে নব্য জেএমবির আমির হিসেবে বলে আসছেন।
 
১৯৯৮ সালে শায়খ আবদুর রহমান জা’মাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রতিষ্ঠা করেন। অনেক ঘটনার জন্ম দিয়ে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের সূর্যদিঘল বাড়ী থেকে তিনি আটক হন এবং ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ কুমিল্লা কারাগারে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এরপর নানা সময়ে জেএমবির নেতৃত্ব তছনছ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  
 
পরে পর্যায়ক্রমে মাওলানা সাইদুর রহমান ও সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হকের নাম আসে জেএমবির আমির হিসেবে। সাইদুর রহমান আটক ও মেজর জিয়ার রহস্যজনক অন্তর্ধানের পর নব্য জেএমবি গঠিত হয়েছে বলে প্রচার রয়েছে। নব্য জেএমবির আমির হিসেবে আবদুর রহমান, আবুল কাশেম, সোহেল মাহফুজ, তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, মাঈনুল হক মুসা ও সর্বশেষ আইয়ুব বাচ্চু ওরফে সাজিদের নাম প্রচার পেয়েছে। তবে কেবল আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে নব্য জেএমবির আমীরের যোগাযোগ থাকতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে।
 
একের পর এক শীর্ষ নেতা আটক ও নিহতের পর নেতৃত্বে নতুন নতুন নাম আসায় এরপর নব্য জেএমবির আমীরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও জেএমবি আমির হিসেবে যাদের নাম আলোচনা হচ্ছে তাদের অনেকের কর্মকাণ্ডই তেমন আলোচিত না। হঠাত্ করে একেক নাম শুনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সংন্থার সদস্যদের কাছেও এ নিয়ে খটকা লাগছে বলে জানা গেছে।
 
র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ বলেন, নব্য জেএমবির আমিরকে এটা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। হলি আর্টিজানের হামলার পরে বিভিন্ন অভিযানে তাদের নেতৃত্ব তছনছ হয়ে গেছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও একই কথা বলা হয়।
 
ইত্তেফাক/কেকে