সাতক্ষীরার কুখরালীর অধিবাসী হোমিও চিকিত্সক শেখ মোকলেসুর রহমান জনির অবস্থান নির্ণয়ে এবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী পিবিআই’কে দিয়ে ওই ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করে আগামী ৩ অক্টোবর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশের আইজিকে বলা হয়েছে।
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। এর আগে জনির নিখোজ ও তার অবস্থান নির্ণয়ে গঠিত বিচারিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট। পর্যালোচনা শেষে আদালত বলেন, প্রতিবেদন পড়ে মনে হচ্ছে বিচারিক তদন্ত কমিটির সদস্য নিজেই ‘কনফিউজড’। এরপর আদালত ওই প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করে রাখেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস ও রিটকারীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. মতিয়ার রহমান (মতিন) উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে হাইকোর্টের আদেশের পর জনির স্ত্রী জেসমিন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, স্বামী নিখোঁজের সময় আমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। প্রায় এক বছর ধরে সে নিখোঁজ। এখন আমার মেয়ের বয়স ছয় মাস। এই সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, মানবাধিকার সংস্থা ও পুলিশের কাছে গিয়েছি, কেউ স্বামীর সন্ধান দিতে পারেনি। এরপরই হাইকোর্টে রিট করি। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। জন্মের পর আমার এই শিশু সন্তান আজ পর্যন্ত তার বাবাকে দেখতে পায়নি। আমার সন্তানের কাছে তার বাবাকে ফেরত দিন, যাতে তার বাবাকে সে দেখতে পারে।
জনির খোজ না পেয়ে তার স্ত্রী জেসমিন হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট করেন। রিটে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৪ আগষ্ট রাত ৯ টার দিকে ঔষুধ আনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট এলাকায় এলে জনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন রাত ১ টায় পুলিশ জনিদের বাড়িতে অভিযান চালায়। পরদিন জেসমিন ও তার শ্বশুর থানায় গিয়ে জনির খোজ করেন ও তাকে থানা হাজতে দেখতে পান। পরে আরো দু’দিন থানায় আটক থাকা জনিকে খাবারও দেন। ৮ আগষ্ট থানায় গেলে পুলিশ জনিকে আটক করা এবং থানায় রাখার কথা অস্বীকার করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জনিকে আটক বা গ্রেপ্তার করেনি। এছাড়া তাকে আটকের বিষয়ে থানার কোন রেজিস্ট্রারে কোন এন্ট্রি নেই। এরপরই জনির অবস্থান নির্ণয়ে বিচারিক তদন্তের জন্য সাতক্ষীরার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুলাহ মাহমুদকে ঘটনাটি তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ কর্তৃক জনিকে গ্রেপ্তার ও তিনদিন পর্যন্ত থানায় আটকে রেখে পরবর্তীকালে অস্বীকারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার সাথে সাতক্ষীরার এসপি, সদর থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ ও এসআই হিমেল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সময় ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণের অপর্যাপ্ততার কারনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা ও জনির বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
ইত্তেফাক/এএম।
