চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওয়ে সামরিক আইন বলবত্ থাকা দরকার বলে গতকাল কংগ্রেসকে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। তিনি বলেছেন, আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে এ বাড়তি সময় প্রয়োজন।
দুই কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই এলাকায় আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গিদের তত্পরতা বেড়ে যাওয়ায় গত ২৩ মে থেকে সেখানে সামরিক আইন জারি করা হয়। আইএস অনুসারী ছাড়াও সেখানে রয়েছে মার্কস বিদ্রোহীদের আস্তানা। মাউত এবং আবু সাইয়েফ গ্রুপ মারাউয়ি এলাকার অনেক স্থান দখল করে রাখে। এ কারণে সেখানে চরম নিরাপত্তা সংকটে পড়ে দেশটি। ফলে দেশটি জঙ্গি দমনে তাদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে। স্থল হামলা ছাড়াও বিমানপথেও সেখানে হামলা চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সংঘর্ষে ৪১৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এছাড়া ৪৫ বেসামরিক লোক ও ৯৮ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র আর্নেস্টো অ্যাবেলা দুতের্তের সই করা একটি চিঠির উদ্ধৃত করে বলেন, বাড়তি সময় চাওয়া এ জন্যে যে, সেখানে যেন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আরো অভিযান পরিচালনা করা যায়।
তিনি বলেন, যদিও জঙ্গিদের তত্পরতা অনেক কমে এসেছে। তারপরও আরো যেসব জঙ্গি আছে কিংবা বিভিন্ন স্থানে যারা লুকিয়ে আছে তাদের ধ্বংস করতে সামরিক আইনের এই সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। কেননা যেসব স্থান মুক্ত হয়েছে এখনো সেসব স্থানে লোকজন ফিরে আসেনি। তাদের মাঝে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরইমধ্যে দুতের্তে মারাউয়ি পুনর্গঠনে একটি টাস্কফোর্স নিয়োগ দিয়েছেন। প্রায় ৪০ কোটি ডলার এ খাতে ব্যয় করার জন্য ধার্য করা হয়েছে। কেননা আশঙ্কা করা হচ্ছে এসব জঙ্গি এখানে তাদের সংখ্যা আরো বাড়াতে পারে। একটি সূত্র জানায়, ইরাকে আইএস ধরাশায়ী হওয়ায় তারা এখন মিন্দানাও দ্বীপকে আশ্রয় করে তাদের ঘাঁটি বানাতে চেষ্টা করছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে বলেছেন, আমাদের সামনে জঙ্গি দমনে সময়সীমা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।
ইত্তেফাক/নূহু
