শ্যামনগরে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৭, ২৩:০৩
 
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জাকির হোসেন মুকুল হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা ও তার প্রেমিক মনিরুজ্জামান মুকুলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭০ হাজার জরিমানা করেছে আদালত।
 
স্ত্রী জেসমিন সুলতানার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো একবছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসাথে তার প্রেমিক মনিরুজ্জামান মুকুলের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর  কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আব্দুল হামিদ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন।
 
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর ধাপুয়ার চক গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান মুকুল (৪২) ও নিহত জাকির হোসেন মুকুলের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা (৩৪)।
 
মামলার বিবরণে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের কেরামত আলী গাজীর ছেলে জাকির হোসেন মুকুল উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে মোহরার কাজ করতো। বন্ধুত্বের জের ধরে সন্তানকে নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা করার সুবাদে জাকিরের স্ত্রী জেসমিন সুলতানার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিুরুজ্জামান মুকুল। বেশ কয়েক মাস অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পর মনিরুজ্জামান মুকুলকে বিয়ের জন্য বলে জেসমিন সুলতানা। এক স্ত্রীর দুই স্বামী থাকতে পারে না জেসমিনের এমন বক্তব্যের কারণে মনিরুজ্জামান মুকুল পরিকল্পনা করে জাকির হোসেন মুকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক মো. হযরত আলী ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর  সাজাপ্রাপ্ত দু'জনসহ শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের ফকির আহম্মেদ মিস্ত্রীর ছেলে জবেদ আলী মিস্ত্রী (৪৬), কালাম মিস্ত্রীর ছেলে ওসমান মিস্ত্রী (৫০), তার ভাই ওমর ফারুক মিস্ত্রী (৫৮), সোলায়মান মিস্ত্রীর ছেলে রেজাউল ইসলাম (৪২), গনি গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলাম(৩৫) ও কালিগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শহীদ সরদার (৫০) এর নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
 
মামলার নথি ও ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে বিচারক উক্ত দুই জনকে দোষী সাব্যস্ত করে উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন। অপরদিকে, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় জবেদ আলী মিস্ত্রী, ওসমান মিস্ত্রী, ফারুক মিস্ত্রী, রেজাউল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম ও শহীদ সরদারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।
 
মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. আব্দুল মজিদ(১), অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, অ্যাড, আবু বক্কর ছিদ্দিক ও  অ্যাড. এস এম হায়দার আলী। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. সৈয়দ জিয়াউর রহমান জিয়া।
 
ইত্তেফাক/জামান