‘বাংলাদেশি খেদাও’ নিয়ে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা উত্তপ্ত

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৭, ১০:৩১
 
ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডার আবাসনে পরিচারিকা নিয়ে গোলমালের জেরে ‘বাংলাদেশি খেদাও’ অভিযানে নেমেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার থেকে নয়ডায় কাজ করতে যাওয়া প্রায় ৪০টি পরিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পথে এসে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘু ও বাংলাভাষী হওয়ায় তাদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। খেদাও অভিযানে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী মহেশ শর্মা পুরোপুরি মদত দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
 
রাজ্যের মানুষের হেনস্থার অভিযোগ জেনে তত্পর হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্যাতিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলতে তৃণমূলের একটি মহিলা প্রতিনিধি দল পাঠানোর পাশাপাশি মমতা রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে বলেছেন গোটা ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জেনে তাকে জানাতে।
 
প্রয়োজনে পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে সরব হতেও বলা হয়েছে ওই এমপিকে।  মুখ খুলেছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার। নয়ডার একটি আবাসনের বাসিন্দা মিতুল শেট্টির বিরুদ্ধে তার পরিচারিকা জোহরা বিবিকে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরের দিন সকালে জোহরার স্বামী স্ত্রীর খোঁজে আত্মীয় ও পড়শিদের নিয়ে এসে ভিতরে ঢুকতে চাইলে আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়।
 
অভিযোগ জানায় দু’পক্ষই। শেট্টিরা জোহরার নামে ১০ দশ হাজার রূপি চুরি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বাড়িতে ভাংচুরের অভিযোগ দায়ের করে। ইতোমধ্যেই ওই কাণ্ডে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জোহরার অভিযোগ, তাকে সারা রাত আটকে রেখে মারধরও করা হয়। সকালে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যান তিনি। জোহরার অভিযোগের সত্যতা মানতে রাজি নয় উত্তরপ্রদেশ তথা কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি।তাদের দাবি, শুধু শেট্টি পরিবারের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রয়োজনে শেট্টি পরিবারের হয়ে আইনি লড়াই করার পক্ষে অঙ্গীকার করেছেন স্থানীয় এমপি মহেশ শর্মা।
 
তার দাবি,  এরা সকলেই কোথাকার তা ভাল করেই জানা আছে। কারণ আমি নিজেও নয়ডাতেই থাকি। মহেশের দাবি, হামলাকারীরা যাতে অন্তত এক বছর জামিন না পায় তার ব্যবস্থা করবেন তিনি। খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দাবি, তারা কুচবিহারের বাসিন্দা। ভোটার কার্ডও রয়েছে তাদের। অভিযোগ, এদের তাড়ানোই এখন লক্ষ্য বিজেপি সরকারের। মহেশ শর্মার দাবি, যারা এতে সামপ্রদায়িকতার রং লাগানোর চেষ্টা করছেন তাদের আমাদের সংগঠনের সদস্যরাই দেখে নেবে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর