ভালোবাসায় লাকী আখন্দকে স্মরণ করলেন তার প্রিয়জনেরা। গানে কথায় তাকে শ্রদ্ধা জানালেন সবাই। বক্তারা বললেন, লাকী আখন্দ নতুন সঙ্গীত ধারায় এদেশের সঙ্গীত ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার রেখে যাওয়া গান অমর, চিরসবুজ। এসব সুরের মৃত্যু নেই।
গতকাল শনিবার লাকী আখন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নাগরিক শ্রদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। সহযোগিতায় ছিলো বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা) এবং শিল্পীর পাশে ফাউন্ডেশন। একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। আরো বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে লাকী আখন্দের জীবনভিত্তিক একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে লাকী আখন্দের বাল্যবন্ধু ফেরদৌস ওয়াহিদ গেয়ে শোনান লাকী আখন্দের ‘আগে যদি যানতাম’ ও ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ গান দুটি। সবশেষে চিকিত্সাধীন অবস্থায় প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টারে থাকাকালীন শিল্পী লাকী আখন্দের সুর করা তার জীবনের শেষ গানটির ভিডিওচিত্রও প্রদর্শিত হয় এ আয়োজনে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে, কিন্তু সময়ের আগে চলে গেলে তা মানুষকে কাঁদায়। লাকী আখন্দের মতো শিল্পী কালোত্তীর্ণ। একশ বছর পরেও মানুষ তাকে মনে রাখবে।’
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমাদের দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে যখন ভাটা ছিলো, কথা ও সুরে শক্তি ছিলো না। ঠিক সে সময়ই লাকী আখন্দ নতুন কথা ও সুর নিয়ে আভির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি আধুনিক গানে আধুনিকতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। বর্তমান সময়ে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি বড় ভূমিকা রাখতে পারতেন।’
আনিসুল হক বলেন, ‘লাকীরা হারায় না, মারা যায় না। তার বেঁচে থাকে স্মৃতি হয়ে। লাকীর গানকে সংরক্ষণ করতে হবে। সে সঙ্গে লাকীর গান গেতে হবে খোলা মাঠে। যেখানে শত শত শিল্পী অংশ নেবেন।’
গৌরাঙ্গ আদিত্যের জন্য নাট্য প্রদর্শনী শুরু
গৌরাঙ্গ আদিত্য- যাত্রাপালায় যার বিবেকের বাণী মানুষকে ভাবিয়েছে, কাঁদিয়েছে। তার কণ্ঠের গান ছুঁয়ে গেছে মানুষের হূদয়। হঠাত্ অসুস্থতায় শরীরের বাম পাশ এখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত। গুণী এ মানুষটির চিকিত্সার সাহায্যার্তে এগিয়ে এসেছে দেশের নাট্যদলগুলো। গতকাল শনিবার থেকে তার চিকিত্সা সহায়তার জন্য শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে চারদিনের বিশেষ নাট্য প্রদর্শনী। যৌথভাবে এ নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে থিয়েটার আর্ট ইউনিট. প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন, লোকনাট্য দল (বনানী), সুবচন নাট্য সংসদ এবং ম্যাড থেটার।
গতকাল একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয় থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘মর্ষকাম’। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মেহমুদ সিদ্দিকী, নুরুজ্জামান বাবু, মাহফুজ সুমন, এস আর সম্পদ, সজল চৌধুরী, সেলিম মাহবুব, স্বাধীন শাহ, রিয়াজ হোসেন, জামান, মোহাম্মদ বারী, চন্দন রেজা প্রমুখ। এটি থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ১৯তম প্রযোজনা। আজ সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত হবে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইনের ‘টোকোলশ’। একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘কঞ্জুস’ মঞ্চস্থ করবে লোকনাট্য দল (বনানী)।
আলিয়ঁসে ‘অ্যানাদার এক্সিস’
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে শুরু হয়েছে তরুণ চিত্রশিল্পী আলমগীর হোসেনের একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ‘অ্যানাদার এক্সিস’। গতকাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ।
প্রদর্শনীতে ২৫টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। যা চলবে ১ আগস্ট পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে।
দিনু ঠাকুরের গান নিয়ে ‘আমার বেদনা লহ বুঝি’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিনু ঠাকুরকে বলতেন ‘আমার গানের ভান্ডারী’। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীতভবনের তিনিই ছিলেন প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। দিনু ঠাকুরের গান নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে শিল্পী সুকান্ত চক্রবর্তী ও অভিজিত্ মজুমদারের যৌথ অ্যালবাম ‘আমার বেদনা লহ বুঝি’। গতকাল ছায়ানট মিলনায়তনে অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিতা হক। অনুষ্ঠানে সুকান্ত চক্রবর্তী ও অভিজিত্ মজুমদার সঙ্গীত পরিবেশন করেন। রবীন্দ্রনাথ ও দিনেন্দ্রনাথের লেখা থেকে পাঠ করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়।
অ্যালবামটিতে মোট ৯টি গান সংকলিত হয়েছে। এগুলো হলো ‘পথপাশে মোর রচিনু দেউল’, ‘পলাশরাঙা বাসনাগুলি’, ‘আজি আঁধার সাগর মগন’, ‘তোমার সুতায় গেঁথে লব’, ‘বুঝেছি বুঝেছি তব বাণী’, ‘আজি এ নিশীথে জাগে একাকী’, ‘তারে কেমনে ধরিব হায়’, ‘যারে ভালবেসেছিলি’ ও ‘বলা যদি নাহি হয় শেষ’।
ইত্তেফাক/নূহু
