জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর ঘটনায় ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। তবে হজ গমনেচ্ছু ব্যক্তি সম্পর্কে দেয়া সংশোধিত পুলিশ প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, হজ গমনেচ্ছু ব্যক্তি জীবিত। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদনে এটা উল্লেখ না করে বলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে দুটো মামলা রয়েছে। কিভাবে আদালতের আদেশ প্রতিপালন করতে হয় সেটা এই পুলিশ কর্মকর্তা জানেন না। যেভাবে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে এতে তার ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে। একইসঙ্গে তার দায়িত্বে গাফিলতিও প্রকাশ পেয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার শুনানির এক পর্যায়ে এসব কথা বলেন। একইসঙ্গে ওসির আইনজীবীকে যথাযথভাবে তলবের ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছেন, এমনভাবে এফিডেভিট দাখিল করেছেন তাতে মনে হচ্ছে দোষ ওই কনস্টেবলের। কনস্টেবলের ওপর দোষ চাপিয়ে ওসিকে 'সাধু' বানাতে চান। সবকিছু সঠিকভাবে দাখিল করা না হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার অধিবাসী মো. আজাদ হোসেন ভূইয়া হজে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন, জমা দিয়েছেন প্রয়োজনীয় অর্থ। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদনে তিনি 'ইন্তেকাল করিয়াছেন' মর্মে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে গত ১৭ জুলাই তলব করে হাইকোর্ট। ওই তলব আদেশে গতকাল আদালতে হাজিরা দেন ওসি মোশাররফ।
শুনানিতে ওসির আইনজীবী শাহরিয়া কবির বিপ্লব বলেন, ১৯৯ জনের পুলিশ প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য আখাউড়ার ওসির কাছে তথ্য চান পুলিশ সুপার। ওসি ১১ জন এসআইকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন। এর মধ্যে এসআই আবুল কালাম আজাদ টেলিফোনে কম্পিউটার অপারেটরকে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনে একজন মৃত ও আরেকজনের বিষয়ে দুটি মামলা আছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অপারেটর যার ( আজাদ) বিরুদ্ধে মামলা আছে তার স্থলে মৃত ব্যক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এখানেই তথ্য বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এই তথ্য উপস্থাপন করে ওসিকে কি ‘সাধু’ প্রমাণ করতে চাচ্ছেন? এফিডেভিটে তো দেখতে পাচ্ছি ওসির সাক্ষরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আর আপনি কনস্টেবলের ওপর দোষ চাপাতে চাচ্ছেন। আপনার বক্তব্য আর নথির তথ্যে তো অসামঞ্জস্যতা রয়েছে।
এ পর্যায়ে রিটকারী আজাদের আইনজীবী এম খালেদ বলেন, দুটো মামলার মধ্যে একটিতে রিটকারী খালাস পেয়েছেন, অপরটিতে জামিনে আছেন। কেস থাকলে কি হজে যেতে নিষেধ রয়েছে? আদালত বলেন, আমরা জানতে চেয়েছিলাম ওই ব্যক্তি জীবিত না মৃত? কিন্তু এই বিষয়ে কোন জবাব না দিয়ে সংশোধিত পুলিশ প্রতিবেদন দেখিয়ে বলছে তার বিরুদ্ধে দুটো মামলা আছে। কিন্তু মামলা দুটোর সর্বশেষ অবস্থান কি তাও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। একজন ব্যক্তি হজে যাবে আর তার সম্পর্কে পুলিশ সঠিকভাবে প্রতিবেদন দিতে পারবে না তাহলে ওই কর্মকর্তার থাকার দরকার নেই। এত নথি দিয়েছেন আর ওই ব্যক্তিটি জীবিত সেটা লিখতে পারল না-এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেই নয়। এ পর্যায়ে ক্ষমা চেয়ে পার পান ওসির আইনজীবী।
ইত্তেফাক/জামান
