কেশবপুরে পানিবন্দি দুইশ পরিবার

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৭, ০৩:৫৭

কেশবপুর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদীর নাব্যতা না থাকা, অপরিকল্পিত মাছের ঘের ও কেশবপুর পৌরসভার দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতোমধ্যে হরিহর ও আপারভদ্রা নদীর পানি নিষ্কাশনে দেড় কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। কিন্তু তা জনগণের কোনো কল্যাণে আসেনি। গত শুক্রবার রাত ও শনিবার দিনব্যাপী থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় তলিয়ে গেছে চারটি সড়ক। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে তিন গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার।

জানা গেছে, কেশবপুর শহরের বর্ষার অতিরিক্ত পানি হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদী দিয়ে আপারভদ্রা নদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। এ তিনটি নদী পলিতে ভরাট হওয়ার কারণে গত বছরের আগস্টে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় কেশবপুর শহরবাসীকে। এ প্রধান তিন নদীর সমস্যা চিহ্নিত করে ইতোপূর্বে হরিহর নদীর দেড় কিলোমিটার পলি অপসারণের দেড় কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

বর্তমান আপারভদ্রার পলি অপসারণের কাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু হরিহর নদীর পলি অপসারণ কাজে ঠিকাদারের অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে হরিহর নদীর পানি নিষ্কাশন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পানি উজানে শহরে ঢুকে পড়ছে। এর অধিকাংশ অর্থই লুটপাট হচ্ছে ঠিকাদার ও সংশ্লি­ষ্ট বিভাগের কর্তাদের মধ্যে। এ ছাড়া শহরের আশ-পাশের নিম্নাঞ্চলের ৩৯৬টি অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভারী বর্ষণ ও হরিহর নদীর উপচেপড়া পানিতে কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল বিশ্বাসপাড়া, খানপাড়া, ভবানিপুর, সাহাপাড়া ও আলতাপোল এলাকা, বাজিতপুর ঋষিপাড়া, কলেজপাড়া বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে প্রায় ২‘শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কেশবপুর সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও তলিয়ে গেছে পানিতে। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মাছের ঘের মালিকরা ঘেরের চারপাশে নেট (জাল) টাঙানো কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকুল খানপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এনামুল খানের বাড়ি এলাকায় হাঁটু পানিতে থই থই করছে।

মধ্যকুল গ্রামের গৃহবধূ রেক্সনা খাতুন বলেন, তাদের ঘরের বারান্দায় পানি উঠেছে। অপর গৃহবধূ ফেরদৌসী জানান, প্রতি বছর হরিহর নদের উপচেপড়া পানিতে তাদের বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। তাদের বাড়ির উঠানে হাঁটুপানি হয়েছে। মধ্যকুল গ্রামের ওবায়দুর রহমানকে তার বাড়ির মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।  এলাকার পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার খান জানান, তার ওয়ার্ডে প্রায় ১০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া, সরদারপাড়া ও খান পাড়ায় পানি ঢুকে পড়েছে। ভবানিপুর গ্রামের আ. জলিল খান বলেন, তাদের এলাকা থেকে পানি সরার কোনো ব্যবস্থা নেই। সাহাপাড়ার বাসিন্দা কুশসাহা জানান, পৌরসভার দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে গত ৩০ বছর ধরে সাহাপাড়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ পাড়ার ২০/২৫টি পরিবার প্রায় সারা বছরই জলাবদ্ধ থাকে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভবানীপুর, সাহাপাড়া, মধুসড়ক, আলতাপোল গোলাঘাটা সড়ক পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শহরের মাছ বাজার, চারানী বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে।

পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, হরিহর নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পৌর এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতাসহ বন্যা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পাশাপাশি হরিহর নদীর পানি ঢুকে পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের নাথপাড়া, খানপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, শেখপাড়া, এক নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়া, সরদার পাড়া ও খান পাড়ায় পানি উঠে গেছে। ওই সমস্ত এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন।

কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দীন বলেন, তার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ভারি বৃষ্টি হলেই মানুষদের উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, আপার ভদ্রা নদীর বড়েঙ্গা এলাকা খনন কাজ চলছে। হরিহর নদের জিরো পয়েন্ট প্রশস্ত করে কাটা হয়েছে। খনন কাজ শেষ হলেই হরিহর নদী তীরবর্তী এলাকায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

ইত্তেফাক/নূহু