টিভি সিরিয়ালের ব্যাপক জনপ্রিয় একটি চরিত্র রোবকপ। যন্ত্রের তৈরি একজন পুলিশ নিউইয়র্ক শহরময় বিশ্রামহীন দায়িত্ব পালন করে চলেছে। দুর্ধর্ষ অপরাধীদের গ্রেফতার করে নিরাপদ রাখছে শহরবাসীকে। রোবটরা চোর, ডাকাতের পিছু ছেড়ে এবার পিছু নিয়েছে ফুটবলের। বলা হচ্ছে রোবকাপের কথ। গত দু্ই দশক ধরে আয়োজন করা হচ্ছে রোবকাপ। যেখানে নির্লিপ্ত অনুভূতিহীন যন্ত্রের তৈরি খেলোয়াড়রা প্রাণপন লড়াই চালিয়ে শৈল্পিক ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছে। রোবকাপের ২০ বছর পূর্তির আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম আসরের আয়োজক দেশ জাপানে। এই রোবকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কারিগরি লড়াইয়ে জেতা। কারিগরি দিক দিয়ে এই রোবট ফুটবলাররা এতোটাই উন্নতি করেছে যে ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব ফুটবলের তারকা দলের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে রোবট ফুটবল দল।
বাস্তবের মতো রোবটদের ফুটবলকে আকর্ষনীয় করতে, খেলোয়াড় রোবটরা যেনো আরো বেশি আক্রমণাত্মক, সাবলীল গতিশীলভাবে খেলতে পারে, বল পাস করতে পারে সেভাবেই তাদের প্রোগ্রামিং করা হয়েছে। সত্যিকারের ফুটবলারদের মতোই সাবলীলভাবে নড়াচড়া, দৌড়ানো, বল রিসিভ করা, বল পাস করে শৈল্পিক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে এই রোবটরা। তিন ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টের রোবট ফুটবলারদের জন্য আগে থেকেই উচ্চতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিড সাইজের রোবট ফুটবলারদের উচ্চতা নির্ধারণ করা হয় ৪০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার, টিনেজার সাইজের রোবট ফুটবলারদের উচ্চতা ৮০ থেকে ১৪০ সেন্টিমিটার। আর পূর্ণাঙ্গ উচ্চতার রোবটদের জন্য উচ্চতা ঠিক করে দেওয়া হয় ১৪০ থেকে ১৮০ সেন্টিমিটার। অর্থাত্ পূর্ণাঙ্গ আকারের রোবটদের সর্বোচ্চ উচ্চতা নির্ধারণ করা হয় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। কিড সাইজের রোবটদের ফুটবল ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের কাছে মনে হতেই পারে কোন কিন্ডারগার্ডেনের ছেলে মেয়েরা ফুটবল খেলায় মত্ত রয়েছে।
খেলার নিয়ম সাধারণ ফুটবল ম্যাচের মতোই। সবুজ মাঠের উপর লাল বল, সেটিকে ঠেলে পাঠাতে হবে গোলে। খেলা হয় ১০ মিনিট করে মোট ২০ মিনিট। সবচেয়ে বেশি গোল দেওয়া দল বিজয়ী হবে। খেলায় অংশ নেওয়া রোবটগুলোকে খেলা শুরুর আগেই প্রোগ্রাম করে দিতে হয়। একবার খেলা শুরু হলে রোবটগুলো একেবারে স্বনির্ভর। কারিগরি দিক উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে অনেক রোবটই পুরোপুরি ভার্চুয়াল প্রযুক্তি সম্পন্ন ছিল।
রোবকাপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইটসুকি নোদা বলেন, সারা বিশ্বের মানুষের প্রিয় খেলা ফুটবল। তাই ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের টুর্নামেন্ট খুবই ভালো গবেষণার ক্ষেত্র হতে পারে। ফুটবল একই সাথে মজার এবং বুদ্ধিমত্তার খেলা। তাই রোবটদের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির উত্তোরোত্তর উন্নতি সাধন করা সম্ভব। রোবকাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে মিনোরু আসাদা, ইয়াসোউ কুইনিইয়োসি এবং হিওআকি রোবকাপের ভবিষ্যত সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, এভাবে রোবট ফুটবলাররা উন্নতি করতে থাকলে ২০৫০ সালে তারা বিশ্বকাপ ফুটবলারদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে।-স্মিথ সোনিয়ান ম্যাগ
ইত্তেফাক/নূহু
