বগুড়ায় ধর্ষিতা শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন জবানবন্দি প্রদান

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৭, ০৯:১৭
 
বগুড়ায় ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। একইদিন বিকালে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে ২২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি প্রদান করেছে ভিকটিম। এদিকে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর ও তাকে ও তার মাকে নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় গ্রেফতার নারী কাউন্সিলর রুমকি, শ্রমিকলীগ নেতা (বহিষ্কৃত) তুফান সরকার ও তাদের সহযোগীদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বগুড়া। গতকাল  বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে শহরে। নির্যাতিত শিক্ষার্থী ও তার মা এখনও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
 
গতকাল সকালে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বামমোর্চার উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেয় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, নারীমুক্তি কেন্দ্র, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়নসহ আরো একাধিক সংগঠন। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, এই বর্বর ঘটনায় যুক্তরা ক্ষমতার দাপটে যাতে শাস্তি এড়িয়ে না পেয়ে যায় তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে শহরের নবাববাড়ী সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জেলা বিএনপি। সমাবেশে জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
 
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলায় গ্রেফতার মোট  ১১ জন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
 
মতিন সরকারকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার
 
বগুড়ায়  শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মা- মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকারকে বহিস্কারের পর এবার তার বড় ভাই শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকারকেও দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির নেতারা আব্দুল মতিন সরকারকে বহিস্কার করেছেন। তবে তিনি বহিস্কারের কারণ জানাতে পারেননি।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর