লন্ডনে কাল থেকে শুরু হওয়া আইএএফ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের ১০০ মিটার শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়েই লড়াইয়ে নামবেন গতি মানব উসাইন বোল্ট। আর ১০০ মিটারে নিজের শেষ প্রতিযোগিতায় তিনি ‘অপরাজেয়’ হিসেবেই থাকতে চান।
গত চারটি বিশ্ব আসরে আটটি ব্যক্তিগত ফাইনালে বোল্ট শুধুমাত্র একবার নিজেকে ব্যর্থ প্রমাণ করেছিলেন। ২০১১ সালে দায়েগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারের ফাইনালে ফলস স্টার্টের ঘটনা এখনো তার মনে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েই বেঁচে আছে। ১১টি বিশ্ব শিরোপার পাশাপাশি আটটি অলিম্পিক স্বর্ণ : একজন এথলেটের ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করতে এর থেকে বেশী কিছুর আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না।
সে কারণে ‘অপরাজেয়’ খেতাবটি তাকে নতুন করে প্রমাণ করে যেতে হবে না, ইতোমধ্যেই ৩০ বছর বয়সী এই জ্যামাইকান গতিতারকা ‘অপরাজেয়’ হিসেবে ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেই ফেলেছেন। তাইতো বিশ্ব আসরের আগে বোল্টকেই মানায় এতটা আত্মবিশ্বাসী, ‘চ্যাম্পিয়নশিপে একবার খেলতে নামলে আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামবো। আমরা কোচ গ্লেন মিলসও আত্মবিশ্বাসী, লড়াইয়ের জন্য আমি শতভাগ প্রস্তুত।’
লন্ডনে খেলতে আসার আগে আগে বোল্টের সমালোচকরা কেউ কেউ কিছু কারণে তাকে আন্ডারডগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু সম্ভাব্য সেসব প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি অনেকটা হুঙ্কার দিয়েই বোল্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শেষটা তিনি অপরাজিত হিসেবেই থাকতে চান।
বোল্টের একমাত্র সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মানা হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন গ্যাটলিনকে। ২০১৩ সালে রোম ডায়মন্ড লিগ মিটে সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানে বোল্টকে ১০০ মিটারে পরাজিত করেছিলেন দুইবারের ডোপ টেস্টে ধরা পড়া গ্যাটলিন। এই একবারই বোল্টকে হারানোর সৌভাগ্য হয়েছিল ৩৫ বছর বয়সী গ্যাটলিনের। লন্ডনেও এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দেখা হচ্ছে। ২০০৪ অলিম্পিকে ১০০ মিটারে স্বর্ণপদক ও ২০০৫ বিশ্ব আসরে চ্যাম্পিয়ন গ্যাটলিন ২০০৬-১০ পর্যন্ত ডোপ টেস্ট ধরা পড়ে আন্তর্জাতিক মিট থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন। ২০১৫ সালে বেইজিংয়ে ও মস্কোতে বোল্টের পিছনে রৌপ্য নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন। গত বছর রিওতে সবচেয়ে বেশী বয়সী এথলেট হিসেবে ১০০ মিটারে রৌপ্য পদক জয় করেন গ্যাটলিন। ঐ আসরেও সেরার আসন দখল করেছিলেন জ্যামাইকান তারকা বোল্ট।
বোল্ট ও গ্যাটলিন ছাড়াও এবারের লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বোল্টের জ্যামাইকান সতীর্থ ইয়োহান ব্লেক ও গ্যাটলিনের সতীর্থ ক্রিস্টিয়ান কোলম্যানের ওপরও দৃষ্টি থাকবে। তবে কানাডিয়ান স্প্রিন্টার আন্দ্রে ডি গ্রাসে অনুশীলনে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় বোল্টের শিরোপা জয়ের পথ কিছুটা মসৃণ হয়েছে। ১০০ ও ২০০ মিটারে ডি গ্রাসেকে পদক জয়ের অন্যতম দাবীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
১০০ মিটারে বোল্টের সর্বশেষ টাইমিং ছিল ৯.৯৫ সেকেন্ড। আর সে কারণেই নিজেকে শিরোপার পথে অনেকটাই এগিয়ে রাখার আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন বোল্ট। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় নিজের স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করাটাও অনেক বড় ব্যাপার। লন্ডনে এর আগেও এসেছেন বোল্ট। তাই ঐদিক থেকেও কোন ধরনের চাপ নেই বলেই স্বীকার করেছেন এই গতিমানব। এখন শুধু বিশ্বের সামনে শেষবারের মত নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন থান্ডার বোল্ট। বাসস।
ইত্তেফাক/সাব্বির
