ছাতকে সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:৪১

ছাতকে দোলারবাজার ইউনিয়নের বারগোপি পূর্বপাড়া ও বারগোপি পশ্চিমপাড়া গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। শনিবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় অন্তত ১০জন। তাদেরসহ আহত ২৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়রা জানায়, গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলতে শুক্রবার বিকেলে পূর্ব পাড়ার জমির উদ্দিন মেম্বার, লিটন মিয়া, হদিস আলী, পশ্চিমপাড়ার ছেলেদের বাঁধা দিয়ে মাঠ থেকে উঠিয়ে দেয়।  গতকাল সকালে পশ্চিমপাড়ার ছেলেরা গ্রামের লুৎফুর রহমান, খাদিমুল ইসলাম ও এখলাছ মিয়ার নেতৃত্বে মাঠে ফুটবল খেলতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পাড়ার লোকজন তুমুল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র, ইট পাটকেলের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের ও ব্যবহার করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন মহিলাসহ অন্তত ১০ জন।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ রুবেল মিয়া (২২), সোহাগ আহমদ (২৫), রুমেল আহমদ (২০), সাকির আলী (৩৮), হেলাল আহমদ (৪০), রুসনা বেগম (৩৫), সাজ্জাদুর রহমান (৩৫), মিজানুর রহমান (৪০), রুবেল আহমদ (২৫), জাকির আলী (২২), নুরুল আমিন (৪২), ছমির উদ্দিন (৫০), আহমদ আলী (৩৫), লায়েক আহমদ (৩৫), শফিকুর রহমান (৫০), রিপন (২৫), ছয়ফুল আলম (৩০), জুনেদ হাসান (২৬), সুয়েব মিয়া (২০), নুর আলম (৩০)সহ ২৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। গ্রামের লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই এক পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর গুলি ছুঁড়েছে। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এলাকার লোকজন সংঘর্ষের পর সংঘর্ষে ব্যবহারকৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে মিছিল করেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও কোন অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। তবে দ্রুত অস্ত্র উদ্ধারে স্থানীদের আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। 

ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/নূহু