সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারী মামলা না চালানোয় ওই আবেদনটি খারিজ করে দেয় বিচারপতি জিনাত আরা ও কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশন বেঞ্চ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর প্রার্থী মুনসুর আহমেদের আইনজীবী প্রবীর হালদার জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নজরুল ইসলামের চেয়ারম্যান পদ অবৈধ। কেননা তিনি স্থানীয় সরকারের জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ অনুযায়ী ঋণখেলাপি হিসাবে নির্বাচনে অযোগ্য ছিলেন।
২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে দল মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ এবং বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের সময় ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হন নজরুল ইসলাম। জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার জেলার রিটার্নিং অফিসারের (জেলা প্রশাসক) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আল মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর পরবর্তী লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। সিআইবি ডাটাবেইজে সংরক্ষিত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঋণখেলাপি। তিনি কৃষিব্যাংকের কাছে বিচ হ্যাচারির লিমিটেডের স্পন্সর পরিচালক হিসেবে ঋণখেলাপি যা বাংলাদেশ ব্যাংক টেকনাফ শাখার সাথে সংশ্লিষ্ট। পরবর্তীতে নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত চিঠি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট মামলা করেন।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল নিশিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে দলীয় প্রার্থী মুনসুর আহমদকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে হাইকোটে মামলা আর না চালানোর কারণে নজরুল ইসলামের মামলাটি খারিজ করে দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএম।
