জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আরো সতর্ক হতে হবে

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৭, ০২:২৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন ধরনের দূষণ না করেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হচ্ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা নয়, বরং নিজেদেরই আরো সতর্ক হতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারাদেশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় পরিবেশ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে সভাপতির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহামুদ, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এবং সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জাতীয় পবিবেশনীতি ২০১৭’র খসড়া এবং পরিবেশে, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন’র জন্য ‘জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার (কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্লান-সিআইপি)’ খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় পরিবেশ কমিটির তৃতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও এদিন পর্যালোচনা হয়। প্রেস সচিব জানান, এদিন বৈঠকে মংলা বন্দর এলাকায় পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান করার অনুমোদন দেওয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে কৃষি জমি রক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘উন্নয়ন হতে হবে খুবই পরিকল্পিত।’ তিনি আরো জানান, সরকার প্রধান চাষের জমি রক্ষা করার পাশাপাশি অহেতুক গাছ না কাটা এবং নতুন আবাসন এলাকা ও শিল্পাঞ্চলে জলাধার রাখার কথাও বলেছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার তাগিদ দেন। সুন্দরবনকে সৃষ্টিকর্তার উপহার হিসাবে উল্লেখ তিনি নতুন বনায়নের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য কেউ যাতে সুন্দরবনের গাছ না কাটে, সেজন্য ওই এলাকায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, অতিবৃষ্টিতে জনভোগান্তির প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠলে প্রধানমন্ত্রী এর ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতিবৃষ্টি নদীর দূষণ রোধ করার পাশাপাশি লবণাক্ততা কমায়।’ নদী রক্ষায় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দূষণ এড়ানো না গেলে নদী নষ্ট হয়ে যাবে। ঢাকাকে ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদী দূষণমুক্ত রাখতে হবে। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ২২শে শ্রাবণ প্রয়াণ দিবসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করেন। কৃষকদের উন্নয়নে কবিগুরুর বিভিন্ন অবদানের কথাও তিনি এসময় তুলে ধরেন।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমেদ বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন।

ইত্তেফাক/নূহু