মেয়ে যাবে সেফহোমে, মা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৪৯
বগুড়ায় ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার সেই শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা হেফাজতে (সেফ হোম) এবং তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 
 
১১ দিন চিকিৎসা শেষে সোমবার দুপুরে মা-মেয়েকে জেলার অতিরিক্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করে পুলিশ। এ সময় ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. এমদাদুল হক এ নির্দেশ দেন। 
 
এর আগে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল (শজিমেক) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। শজিমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. আবদুল মোত্তালেব হোসেন জানান, মা-মেয়ে দু’জনই শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ। এ কারণে তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। 
 
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নির্যাতিতা শিক্ষার্থীর মা জানান, তারা পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তবে পুলিশ নিরাপত্তা দিলে তারা ভাড়ার ওই বাড়িতেই থাকতে পারবেন। একই সময় তিনি তার মেয়ের ধর্ষক তুফান সরকার এবং নির্যাতনকারি পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ তাদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবি করেন। 
 
গত ২৮ জুলাই থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের শজিমেক হাসপাতালে  চিকিৎসা দেয়া হয়। এরই মাঝে গত ১ আগস্ট বিকেলে মেয়েটির ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন বগুড়ার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শ্যাম সুন্দর রায়। একইদিন সন্ধ্যায় জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. এমদাদুল হক এই পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেন। 
 
গত ৪ আগস্ট সেই শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা প্রতিবেদন হাতে পান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। প্রতিবেদনে ধষর্ণের আলামত মেলার কথা জানান চিকিৎসকরা। পাশাপাশি প্রতিবেদনে মেয়েটি নাবালিকা বলেও উল্লেখ করা হয়।
 
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সনাতন চক্রবর্তী জানান, নির্যাতিতা মা-মেয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পর তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সেখানে ওই দুজনের বক্তব্য শুনে নির্যাতনের শিকার সেই শিক্ষার্থীকে রাজশাহীর নিরাপত্তা হেফাজতে (সেফ হোম) এবং তার মাকে ঢাকার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বগুড়ার জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি