পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ জরুরি। তিনি বলেন, উন্নয়নকে ধরে রাখতে হলে সমাজ এবং রাজনীতির গতিধারা কি হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি ইতিবাচক মানসিকতা।
গতকাল বুধবার টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১৩ অর্জনে খসড়া কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। রাজধানীর বন ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমেদ।
পরিবেশ মন্ত্রী বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীতে সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলছে। আমরাও বলছি। একসময় বলা হতো যেহেতু উন্নয়নশীল বিশ্ব দূষণ করছে সেহেতু তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে একথা সমর্থন করি না। এভাবে কোনো নেগোসিয়েশনও হতে পারে না।
তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা আছে। সবাই মিলে কিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়, সে নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততাকে বড় সমস্যা উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, এটা যদি আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে অন্যান্য উন্নয়ন মানুষের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো নির্ধারণ করে তা দূর করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের নানা সমস্যা আছে, সীমাবদ্ধতা আছে। এরপরও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অসাধারণ।
পরিবেশ মন্ত্রী সবাইকে নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মের সামনে অনেক আশা। সবাইকে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের যে পরিবর্তন এসেছে তাকে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যাবে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমি এবং তুমি এ মানসিকতা থেকে বের হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারণ দেশটা আমাদের সকলের।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, এসডিজি অর্জনে পরিবেশ মন্ত্রণালয় কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বিদেশি সাহায্যের আশায় বসে না থেকে নিজস্ব অর্থায়নে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করছে। কিন্তু আমাদেরকে আগে অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। কোন কাজটা আগে হবে কোনটা পরে তা নির্ধারণ জরুরি। তিনি বলেন, উন্নয়ন মানুষের জন্য-এ চিন্তা করে কাজ করলে তা টেকসই হয়। বিশেষকরে যে বিষয়গুলো সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার পরামর্শ দেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি উপকূলের লবণাক্ততার কথা উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেকে এখন পাগলামি করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মশালায় এসডিজি বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
