মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ফের হঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার ফল কি হবে তা নিয়ে উত্তর কোরিয়াকে ভীত থাকা উচিত। ট্রাম্প টুইট করে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে রয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধ হলে সর্বনাশ ডেকে আনা হবে।
এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামে পৌছাতে সময় লাগবে মাত্র ১৪মিনিট। উত্তর কোরিয়া বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীনের গণমাধ্যম কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ বাঁধলে সরকারের কী করা উচিত সেই পরামর্শ দিয়েছে। খবর সিএনএন ও বিবিসি’র
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল এক টুইটার বার্তায় বলেন, যদি উত্তর কোরিয়া ভেবে-চিন্তে কাজ না করে, তবে তাদেরকে ‘ওইসব অল্প কিছু দেশের মতো’ সমস্যায় পড়তে হবে। এ অবস্থায় কি কিম জং উনের অবিবেচকের মতো কাজ করা উচিত নয়, আশা করি কিম অন্য উপায় খুঁজে বের করবেন। ট্রাম্প বলেন, যদি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হয় সেই পদক্ষেপের বিষয়টিও চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, যুদ্ধ হলে সর্বনাশ ডেকে আনা হবে। বরং এক্ষেত্রে কূটনৈতিক আলোচনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ দূতের তত্ত্বাবধানে সেই চেষ্টা চলছে।
উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সেটা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ গুয়ামে পৌঁছাতে সময় নেবে মাত্র ১৪ মিনিট। গুয়ামের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের মুখপাত্র জেনা গামিন্দে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এরকম পরিস্থিতিতে সাইরেন বাজিয়ে দ্বীপের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হবে। ইতোমধ্যে গতকাল একটি নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর। ফ্ল্যাশ কিংবা ফায়ারবলের দিকে না তাকাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর ক্ষেপনাস্ত্র দেখতে পেলে কী করতে হবে তাও নির্দেশনায় বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কোরিয়া উত্তেজনায় চীনের অবস্থান স্পষ্ট করেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রথম আঘাত হানলে বেইজিংয়ের নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আগে হামলা চালালে চীনা সরকারের ‘হস্তক্ষেপ’ করা উচিত বল গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া ওয়াশিংটন এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আমেরিকা এই উপদ্বীপে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর চেষ্টা করছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে গতকাল বাচ্চাদের একটি কার্টুন ছবি প্রচার করা হয়েছে যে ছবিতে রয়েছে জঙ্গলের বন্ধুদের নিয়ে গল্প। আর এর মধ্যে দিয়ে কার্যত আমেরিকা বিরোধী একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভির তৈরি ‘হেজহগের কাছে বাঘ পরাজিত’ নামের এই কার্টুন ছবি দেখে বাইরের দর্শকদের মনে হবে এটা ছোট্ট এক হেজহগের প্রাণ কাড়া এক গল্প।
যেখানে হেজহগ তার গায়ের কাঁটা ফুলিয়ে আর সূক্ষ্মবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে হম্বিতম্বি করা বাঘের আস্ফাালন বন্ধ করে দিয়েছে। হয়তো এই বাঘ নিয়ে সাধারণের মনে প্রশ্ন উঠতো না। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এই কার্টুনের ভূয়সী প্রশংসা করে একটি নিবদ্ধ প্রকাশ করে বলে এটি সর্বকালের সেরা একটি কাহিনী। তারা লেখে এই কমলা রঙের বাঘটা আমেরিকার প্রতীক। অন্য ছোট জন্তুগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আর সাহসী অথচ বিপজ্জনক হেজহগটি হল উত্তর কোরিয়া।
ইত্তেফাক/আনিসুর
