টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৯ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি ৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করতোয়া ও তিস্তা নদীর পানি এখন বিপৎসীমা ছুই ছুই অবস্থা।
এদিকে সুন্দরগঞ্জের তিস্তা, গাইবান্ধা সদরের ব্রহ্মপুত্র, ফুলছড়ি ও সাঘাটায় যমুনা এবং গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চর এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এ সব এলাকার ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন পানিবন্দি এসব মানুষ না খেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ওইসব এলাকার রোপিত আমন ক্ষেত, বীজতলা, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলী জমি তলিয়ে গেছে।
পানিবন্দি এ সব মানুষের মধ্যে অনেকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রেলের জায়গা, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, পানির প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর, বালাসীঘাটের কাইয়াঘাটসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনও সময় বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে হাজারো ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান বলেন, এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে জেলায় আবারো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাউবোর লোকজন বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ গুলো মেরামতের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, বন্যার জন্য সব প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। ভানবাসী মানুষদের ত্রাণ সহায়তাসহ তাদের খোঁজখবর নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন তদারকি করছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
