কক্সবাজারে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের সংঘর্ষে সংকটে চিকিৎসা সেবা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:০৬

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক- নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনায় ধর্মঘটে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি নার্স ও অন্যরাও হাসপাতালে আগত রোগীদের সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। 

গত ৪ এপ্রিল ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। পৌর মেয়র ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যস্থতায় তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েও ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘটে অবস্থান নেয়।

শনিবার বিকেলে বিএমএ’র মানববন্ধনে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দেন চিকিৎসক নেতারা।কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেইটের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। হামলার প্রতিবাদে সারাদেশের চিকিৎসকরা কালো ব্যাজ ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. পঁ চ নু।

মানববন্ধনে বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান, হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল, নোবেল বড়ুয়া,  ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি হাসিবুল নাসিম সোহান ও সাধারণ সম্পাদক ছোটন চাকমা, নার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি দৌলতুন্নেছা, কর্মচারীদের পক্ষে মো. সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম মাহফুজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়াও মানববন্ধন চলাকালীন আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও মহাসচিব এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও মহাসচিব।

মানববন্ধনে বিএমএ নেতারা বলেন, হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের উপর হামলার যাবতীয় তথ্য থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে এখনো পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে কথায় কথায় হামলার সাহস করে দুর্বৃত্তরা। 

তারা আরো বলেন, রোগিকে একজন চিকিৎসক নিজের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে চিকিৎসা দিতে গিয়ে রক্তাক্ত হবে তা মানা যায় না। আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ খবর নেওয়া হয়নি। 

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বিধান পাল বলেন, হাসপাতালে এমনিতেই ডাক্তার-নার্স ঘাটতি রয়েছে। তার উপর এ ধরণের ঘটনা আমাদের গতি থামিয়ে দেয়। এরপরও সব বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা চালু রাখা হয়েছে। ডাক্তার-নার্সদের সাধারণ ছুটি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মামলা রুজু হয়নি। আমরা আশা করবো প্রশাসন যেন এ ব্যাপারে আন্তরিক হয়।

আরো পড়ুন: পাবনায় মহানায়িকার ৮৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত

উল্লেখ্য, আনোয়ার হোসেন নামে শহরের বাহারছরা এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তার স্বজনদের দাবি, একটি ইনজেকশন দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এটি পুশ শেষ হতে না হতেই খিচুনি দিয়ে ঢলে পড়েন আনোয়ার। তিনি মারা গেছেন এটি জানতে পেরে তার স্বজনরা ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। 

ইত্তেফাক/অনি