প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার রাস্তাটিতে অন্তত তিন জায়গায় ভেঙে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছিল। এতে স্কুলে যেতে কষ্ট হতো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের রাস্তাও এটি। রাস্তার মাঝের গর্তে অটোরিকশা, ভ্যানের চাকা বসে গিয়ে মাঝে মধ্যেই দূর্ভোগে পড়তে হতো গ্রামবাসী ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের। এ অবস্থায় নিজেদের স্কুলের রাস্তার ভাঙা অংশগুলি নিজেরাই সংস্কার করলো সদরের হাজিপুর ইউনিয়নের নড়িহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।
রবিবার সকালে সাইকেলের ক্যারিয়ারে ঝুড়িতে করে এলাকা থেকে ইটের টুকরো আনা হয়। পরে রাস্তার পাশ থেকে মাটি কেটে ঝুড়িতে করে নিয়ে আসে ছেলেমেয়েরো। রাস্তার ভাঙা অংশে বাঁশের টুকরো দিয়ে বেধে ভেতরে ইট, মাটি ও বালি দিয়ে সংস্কার করা হয়। শিক্ষার্থীদের এ রকম উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন ওই এলাকার মানুষ।IMG0
সড়কের সংস্কার কাজে অংশগ্রহণকারী ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী আফসানা মীম জানায়, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে এ ভাঙা জায়গায় এসে খুব কষ্ট হতো। রাস্তার ভাঙনে ভ্যান উল্টে পড়ে যাওয়ার ভয়ে ভয়ে থাকতাম। স্কুলের বন্ধুরা মিলে কাজ করে ভাঙ্গা অংশ মেরামত করেছি। ঝুড়িতে লেগে পায়ে সামান্য কেটে গেছে। কিন্তু এ কাজ করতে পেরে খুব আনন্দ হচ্ছে।
এ কাজের সঙ্গে জড়িত আবু বক্কার, হামিদুল, মুন্না, ইয়াসিন, বীথি, নিশি, আয়েশা, রাবেয়া, উর্মি, মারুফা, সাইদ, কলিমুল্লাহ, সুরাইয়াসহ শিশুরা জানায়, নিজেদের স্কুলের রাস্তায় নিজেরা কাজ করতে পেরে খুব ভাল লাগছে।
নড়িহাটি স্কুলের শিক্ষক মোয়াল্লেম হোসেন, ইতিকা বিশ্বাস, অভিভাবক আব্দুল কুদ্দুসসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, স্কুলের শিশুরা এলাকার উন্নয়নের জন্যে কাজ করছে। এর মাধ্যমে তারা সমাজসেবা ও স্বেচ্ছাশ্রমের শিক্ষা পাচ্ছে।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
