বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধান বিচারপতি

‘তদন্তে দুর্বলতায় ষড়যন্ত্রে জড়িত রাঘব বোয়ালদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি’

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৭, ১৭:০৩
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, উপমহাদেশের দু’জন জাতির জনককে হত্যা করা হয়েছে। এদের একজন হলেন মহাত্মাগান্ধী এবং অপরজন হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
 
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত ছিলেন। কিন্তু তদন্তের দুর্বলতার জন্য তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন শেষে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, আজ আমাদের ইতিহাসের একটি মর্মান্তিক দিন। এই দিনে বাংলার মানুষ শুধুই স্বাধীনতার স্থপতিকে হারায়নি, তার বিশ্বাস, তার ভবিষ্যৎ সবাইকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল খুনিরা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড হল কাপুরুষোচিত। বঙ্গবন্ধু হয়তো কারো শত্রু বা কারো বিরাগভাজন হতে পারেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল, দুই পুত্রবধূ, ছোটো ভাই শেখ নাসের যিনি কোন রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না তাদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হল। কিন্তু তাদের অপরাধ কি ছিল? হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর সমস্ত পরিবারকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার । এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পৃথিবীর আর কোনো হত্যার মিল পাওয়া যায় না। আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই এরকমভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছিল।
  
প্রধান বিচারপতি বলেন, হত্যাকাণ্ডই নয় এর পরের ঘটনা ছিল আরো মর্মান্তিক। হত্যাকারীদের রক্ষা করতে রাষ্ট্র আইন দ্বারা ওই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয়। কিন্তু এই সুপ্রিম কোর্ট ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনীত রিট খারিজ করে দিয়েছিলো। ফলে বিচারের পথ প্রশস্ত হয়। ফলে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক হিসেবে আমি এখনো গর্ববোধ করি আদালতে সেই সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য।
 
তিনি বলেন, এই মামলাতে একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। আমি আপিল বিভাগের যখন কনিষ্ঠ বিচারক, প্রকৃতপক্ষে আমি তখন অসুস্থ ছিলাম। সিঙ্গাপুরে তখন আমার ক্যান্সারের ট্রিটমেন্ট চলছিল। ট্রিটমেন্টে থাকাকালে মামলাটির বিচারের জন্য বেঞ্চ গঠন করা নিয়ে সমস্যা হয়। তখনই আমাকে অনুরোধ করা হয় যে, তাড়াতাড়ি চলে আসেন। তখনও আমি জানি না, আমি বাঁচতে পারবো কিনা? ট্রিটমেন্ট বাদ দিয়ে আমি চলে আসলাম। এরপর বেঞ্চ গঠন করা হয় এবং আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি হয়।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির