তাজমহল বিক্রি করে দেয়া জালিয়াত নটবরলাল

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৭, ২১:১০
উপমহাদেশের ইতিহাসে বহু জালিয়াত ‘দক্ষতার’ জন্য (কু) খ্যাতি অর্জন করেছে। তবে বিহারে জন্ম নেয়া মিথিলেশ কুমার শ্রীবাস্তব ওরফে নটবরলালের মতো জালিয়াতিকে শিল্পে পরিণত করতে পারেনি। কুখ্যাত এই জালিয়াত তিনবার তাজমহল বিক্রি করেছে, একবার লালকেল্লা, রাষ্ট্রপতি ভবন এমনকি ৫৪৫ জন সংসদ সদস্যসহ ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবন পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি।
 
আসুন জেনে নেয়া যাক এই কিংবদন্তি জালিয়াত সম্পর্কে মজার ১০টি তথ্য-
 
১/ নটবরলাল তার জীবিকা শুরু করেছিলেন আইনজীবী হিসেবে, কিন্তু জালিয়াতিতে নিজের দক্ষতা বুঝতে পেরে সেই পেশা ত্যাগ করেন। তার জালিয়াতির শুরু স্বাক্ষর নকল করার মধ্য দিয়ে। তার প্রথম বড় অপরাধ ছিল সই নকল করে ১ হাজার রূপি আত্মসাৎ করা।
 
২/ নাম ও চেহারা পাল্টানোতে তারা কোনো জুড়ি ছিল না। প্রায় ৫০টির মত ছদ্মনাম ব্যবহার করে এই কিংবদন্তি প্রতারক। এমনকি ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ও শিল্পপতি ধিরুভাই আম্বানির সই নকল করেছিলেন নটবরলাল।
 
৩/ নটবরলালের সবচেয়ে বড় ‘কীর্তি’ সম্ভবত সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম তাজমহল বিক্রি করা। শুধু একবার না তিন তিন বার এই কর্ম সাধন করেন তিনি। বিদেশি পর্যটকদের কাছে সরকারি কর্মকর্তা সেজে এই কর্মসাধন করেন নটবরলাল। এছাড়া ধারণা করা হয় দিল্লির লাল কেল্লা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনও বিক্রি করেছিলেন তিনি।
 
IMG0
 
৪/ ভারতের দুর্নীতি বিরোধী নেতা আন্না হাজারে ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল প্রায়ই বলে থাকেন, সব রাজনীতিবিদ বিক্রি হয়ে গেছেন। নটবরলাল একবার আক্ষরিকভাবেই ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবন ৫৪৫ জন পার্লামেন্ট সদস্যসহ বিক্রি করে দিয়েছিলেন এক বিদেশির কাছে।
 
৫/ নটবরলালকে অসংখ্যবার গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বিচার করা হয়েছে। ১৪টি অভিযোগে তার ১১৩ বছর কারাদণ্ড হয়েছিল, কিন্তু কোনোবারই পুরো কারা মেয়াদ পার করাতে পারেনি তাকে কর্তৃপক্ষ, কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০ বছর কারাগারে ছিলেন নটবরলাল।
 
 
৬/ সর্বশেষ নটবরলালকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা গিয়েছিল ১৯৯৬ সালে নয়াদিল্লি স্টেশনে। তাকে কানপুর কারাগার থেকে এআইআইএমএস হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য নেয়া হচ্ছিল। ৮৪ বছর বয়সেও হুইলচেয়ার থেকে হাওয়া হয়ে যান নটবরলাল।
 
IMG1
 
৭/ মৃত্যু নিয়েও জালিয়াতি করেছেন এই মহা চালবাজ। নটবরলালের ভাই দাবি করেন ১৯৯৬ সালে তিনি মারা গেছেন এবং তাকে কবর দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার আইনজীবী বলেছেন, নটবরলাল ২০০৯ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন-অর্থাৎ ৯৭ বছর জীবিত ছিলেন  নটবরলাল।
 
৮/ পুলিশের খাতায় জালিয়াত মিথিলেশ কুমার শ্রীবাস্তব কিন্তু তার গ্রামের মানুষের কাছে রবিনহুড সমতুল্য ছিলেন। প্রায়ই গ্রামে এসে সময় কাটাতেন এবং জালিয়াতি করা অর্থ গরীবদের দান করতেন।
 
৯/ তার গ্রামের মানুষ এখনো তাকে ভালোবাসে। ২০১১ সালে তার গ্রামের এক বাসিন্দা দুঃখের সঙ্গে বলেন, ১৯৯২ সালে নটবরলাল সিওয়ান শহরে আসেন, আমি তাকে দেখতে গেলেও শেষ পর্যন্ত ভিড়ের জন্য পারিনি।
 
IMG2
 
১০/ নটবরলালের কীর্তির উপর ভিত্তি করে অনেক বলিউডি সিনেমা নির্মিত হয়েছে। অমিতাভ বচ্চন তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ১৯৭৯ সালে মিস্টার নটবরলাল নামের সিনেমা করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ইমরান হাশমি রাজা নটবরলাল সিনেমা করেন।