ভূঞাপুরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৭, ২১:১৫
 
প্রবল বর্ষা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে বিপদসীমার ১৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
 
এদিকে তারাকান্দি-টাঙ্গাইল সড়ক লিকেজ হয়ে কমপক্ষে ১০ পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। সড়কের লিকেজ বন্ধ করতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে কাজ করছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে যেকোন সময় সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
 
সরেজমিনে জানা যায়, যমুনার পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী, নিকরাইল ও অলোয়া ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ১৫ হাজার বসতবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, বোনা আমন, আউশ, বীজতলা ও সবজি বাগান। ক্লাসরুমে পানি প্রবেশ করায় ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি উচ্চ বিদ্যালয় ও ছয়টি দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে। স্থগিত করা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা।
 
প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। নিমজ্জিত হচ্ছে ফসলি জমি।পুরো উপজেলাই বন্যা কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে বন্যার পানিতে বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘরের মধ্যে উঁচু বাঁশের মাচান পেতে পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।হাজার হাজার মানুষ নিজ ঘরবাড়ী ছেড়ে পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ী, অন্যের উঁচু জমি ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এদের অধিকাংশই রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৌঁছেনি কোন সাহায্য।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, 'বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উঁচু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে বন্যার্তরা আশ্রয় নিতে পারে। আটকে পড়াদের উদ্ধারে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনা খাবারের ব্যবস্থা রাখা আছে।'
 
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, ভূঞাপুরে যমুনা পানি মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তারাকান্দি-টাঙ্গাইল সড়কে লিকেজ বন্ধ করতে ১০টি পয়েন্টে কাজ চলমান রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান