বেনাপোল বন্দরে পাঁচ হাজার টন চাল খালাস নেয়া হচ্ছে না

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৭, ২১:৩২
 
ভারত থেকে আমদানি করা ৬০টি পণ্য চালানের প্রায় পাঁচ হাজার টন চাল বেনাপোল বন্দর থেকে খালাস নিচ্ছেন না আমদানিকারকরা। তারা আশা করছেন  সরকার চালের ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করবেন। এমন আশায় আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত প্রায় ২০০ ভারতীয় চাল বোঝাই পণ্যবাহী ট্রাক আটক রেখেছে।
 
মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রানশিপমেন্ট ইয়ার্ডের পাশের সড়কে ইয়ার্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় ১৯টি চাল বোঝাই ভারতীয় ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। চাল খালাস না নেয়ায় বেনাপোল বন্দরে যানজটসহ পণ্যজটও বাড়ছে প্রতিদিন। এদিকে ভারতের অংশে পেট্রাপোল বন্দরে এবং বনগাঁও এবং চাকদা সড়কে প্রায় দেড়শ  চাল বোঝাই  ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় দাড়িয়ে রয়েছে। এ সব ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের পর খালাস না নিলে  বন্দরে একদিন থাকার পর ট্রাক প্রতি  প্রতিদিনের ট্রাক ডেমারেজ দিতে হবে এমনটা ভেবে আমদানিকারকরা এ সব ট্রাক গ্রহণ করছেন না।
 
তবে  যে সব চাল বোঝাই ট্রাক  বেনাপোল বন্দরে আমদানিকারকরা আটকা রেখেছে  তাদেরকে প্রতিদিন ট্রাক প্রতি গুনতে হচ্ছে ডেমারেজের টাকা। ৬ চাকার ট্রাকে প্রতিদিন ১২০০ টাকা, ১০ চাকার ট্রাকে ২০০০টাকা এবং ১২ চাকার ট্রাকে ৩০০০ টাকা। ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার প্রশেন দাস জানান আজ ৭ দিন চালের ট্রাক নিয়ে এসেছি এখানে  কিন্তু  পার্টি এটা খালাস নিচ্ছে না কি কারণ জানিনা। অনুরূপভাবে নানা সমস্যার কথা জানালেন চালের ট্রাক নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার বিকাশ দাস ও সুজিত বৈরাগী।
 
সরকার চালের আমদানি শুল্কের হার ২২ জুন-২০১৭ তারিখে ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করলে দেশের স্থলবন্দরগুলি দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়। এ সময় বেনাপোল বন্দরের যানজট এবং ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের যানজটের কারণে এ পথে চাল আমদানি করতে অনিহা প্রকাশ করেন আমদানিকারকরা। তখন অন্যান্য বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হলেও বেনাপোল বন্দর দিয়ে যে  চাল আমদানি হয়েছে তা চোখে পড়ার মত নয়। তবুও   কাস্টম হাউসের এক তথ্যে  জানা যায় ২২ জুন-২০১৭ থেকে ২ আগস্ট-২০১৭ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছে ৬ হাজার একশ' ১৯ মেট্রিক টন।সরকার ১ আগস্ট-২০১৭ থেকে বেনাপোল বন্দরকে সাত দিনেই ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার কার্যক্রম চালু করলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বেড়ে যায়।
 
বেনাপোল কাস্টম হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এর রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বাঙালি জানান বন্দর থেকে চাল আমদানিকারকরা চাল খালাস না নেয়ায় বন্দরে যানজট বাড়ছে। বন্দর অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ চাল বোঝাই ভারতীয় ট্রাক  প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দাঁড়িয়ে আছে খালাসের অপেক্ষায়।
 
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. রেজাউল করিম জানান বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০ ট্রাক চাল আমদানি হতো এবং তা খালাস হয়ে যেত। কিন্তু চাল আমদানিতে আরোপিত ১০ ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করবে সরকার এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই এ বন্দর থেকে চাল খালাস করছেন না আমদানিকারকরা।
 
ইত্তেফাক/জামান